মক্কার ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে গড়ে ওঠা ‘হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট’ প্রকল্প চালু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি হেরা পাহাড় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তা উদ্বোধন করেন মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল। মুসলিম পর্যটকদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে তা চালু করা হয়। রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটসের প্রধান সালেহ বিন ইবরাহিম আল-রশিদ অভিনব প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, পবিত্র মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প মুসলিম পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সৌদি ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে দ্য রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হলি সাইটসের সহযোগিতায় ও সাময়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে জাবালে নুরসহ ঐতিহাসিক স্থানগুলো নিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হয়। মক্কার ৬৭ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ডিস্ট্রিক্ট। এতে রয়েছে মিউজিয়াম অব রিভিলেশন, কোরআন মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অব মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদান। মিউজিয়াম অব রিভিলেশন বিভাগে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অহি অবতীর্ণের স্থান হেরা গুহার বাস্তব নমুনা উপভোগ করবেন দর্শনার্থীরা। প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে সমকালের ইতিহাস উপস্থাপনার মাধ্যমে ইসলামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হবেন তারা। কোরআনিক মিউজিয়ামে পবিত্র কোরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, সারা বিশ্বের মুসলিমদের জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি কোরআনের প্রাচীন পা-ুলিপিগুলো দেখা যাবে।
এটি সৌদি আরবের মক্কা শহরের রয়্যাল কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্পের প্রথম ধাপ। এতে সহযোগিতা করেছে মক্কা প্রদেশ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পর্যটন মন্ত্রণালয়, মক্কা পৌরসভা, পিলগ্রিমস সার্ভিস প্রোগ্রাম ও এনডাউমেন্টের জেনারেল অথরিটি। ইসলামের ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মর্যাদা তুলে ধরাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক