কিশোরগঞ্জে ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা

অপচিকিৎসায় পা হারাতে বসেছেন নারী

কিশোরগঞ্জে চিকিৎসক না হয়েও এক ফার্মেসি মালিক দিয়েছেন জটিল রোগের চিকিৎসা। আর তার চিকিৎসা নিয়ে এখন পা হারাতে বসেছেন রহিমা বেগম (৭০) নামে এক নারী। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শা কড়িয়াইল ইউনিয়নে।

অপচিকিৎসার শিকার ওই নারী এখন তার দুটি পা রক্ষায় চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কর্শা কড়িয়াইল ইউনিয়নের কোদালাটিয়া গ্রামের আবদুল গফুরের স্ত্রী রহিমা বেগম ডায়াবেটিসের রোগী। সম্প্রতি তার শরীরে জ্বর এবং দুই পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে পার্শ্ববর্তী চারুকান্দি বাজারের ‘ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ফার্মেসি মালিক সুখা রঞ্জনের কাছে গেলে তিনি ডায়াবেটিস বিবেচনায় না নিয়ে তার দুই হাঁটুতে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। এতে তার দুই পা ও হাঁটুতে ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রহিমার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

শেষ পর্যন্ত এলাকার সচেতন লোকজনের পরামর্শে তিনি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. নজরুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। সেখানেই পরিবারের লোকজন জানতে পারেন, ভুল ইনজেকশনের কারণে তার দুটি পা নষ্ট হওয়ার পথে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক না হয়ে এমন কাজ করা গর্হিত অপরাধ। হাঁটুতে এ ধরনের ইনজেকশন পুশ করার আগে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। যা তিনি করেননি।

তিনি আরও বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে ই নজেকশন দেওয়ায় রহিমা বেগমের পায়ে পচন ধরেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহিমা বেগমের স্বামী আবদুল গফুর বলেন, অপচিকিৎসার বিচারের দাবিতে এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আল আমিন হোসাইন বলেন, এ ব্যাপারে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।