লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকেরা।
ন্যায্য মজুরি, হিসাবে অনিয়ম, কমিটি গঠন, স্বজনপ্রীতিসহ সাত দফা দাবিতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আন্দোলন করেন তারা।
পণ্য বোঝাই ও খালাস করা শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করায় আমদানি-রপ্তানিকৃত গাড়ি পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । এতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় বন্দরে।
এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দরের শ্রমিক হ্যান্ডলিং ও স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ছফর উদ্দিনসহ ২৪ শ্রমিক সর্দাররা তাদের পাওনা ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়েছেন আন্দোলনে নামতে।
ফেডারেশনের অধীনে স্থলবন্দরে ২ হাজার ৬০০ শ্রমিক প্রতিদিন আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের গাড়ি খালাস এবং বোঝাই করে থাকে।
শ্রমিকেরা জানান, ন্যায্য পারিশ্রমিক না পাওয়া, চিকিৎসার জন্য মজুরি থেকে টাকা কেটে রাখা, বন্ধের দিনে পণ্য বোঝাই ও পেলুডার (যান্ত্রিক গাড়ি) দিয়ে পণ্য বোঝাই করা টাকার হিসাবে অনিয়ম, ২০০৯ সাল হতে বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাচন না হওয়া, পারিবারিকভাবে শ্রমিকের সর্দার নিয়োগ এবং অনিয়ম বন্ধে আন্দোলনে নামেন তারা।
সাত দফা দাবি আদায়ে সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে স্থলবন্দরের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
এ সময় শ্রমিকদের দাবির সাথে একাত্মতা জানিয়ে যোগ দেন বুড়িমারী স্থলবন্দরের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুজ্জামান সায়েদ ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহাজুল ইসলাম মিঠু।
তারা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে ফেডারেশনের নেতা ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন।
শ্রমিক মিলন মিয়া (৩৫) বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করে সাধারণ শ্রমিকদের ঠকাচ্ছেন। এ কারণে সকল সাধারণ শ্রমিকেরা আন্দোলনের ডাক দেয়। সাত দফা দাবি মানা না হলে আবারও আন্দোলন করা হবে। কাজ বন্ধ রাখা হবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সফর উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের জমাকৃত টাকা হতে ফেডারেশনের নামে জমি কেনা হয়েছে। অসহায় ও অসুস্থ শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হয়। করোনার সময়ে জমা টাকা থেকে ২৮ লাখ টাকা শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি থেকে আন্দোলন করা হয়েছে। আলোচনা করলে এটা ঠিক হয়ে যাবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিদর্শক মাহাবুব হাসান বলেন, শ্রমিকেরা পণ্যের গাড়ি খালাস বা বোঝাই করেনি। এতে গাড়ি পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। এটা মিটে গেছে শুনেছি।