মানুষের শুধু ‘মানুষ’ হলেই হয় না। তার একটা নাম লাগে। একটা দেশ লাগে। দেশের বাইরে যেতে চাইলে, পাসপোর্ট লাগে, ভিসা লাগে। কিছু দেশে অবশ্য ভিসা লাগে না। সেটা আলাদা বিষয়। তবে, দেশের বাইরে যেতে চাইলে পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। সেই পাসপোর্ট তৈরিতেই, বহুমাত্রিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বিভিন্ন কারণে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন, একজন মানুষ। যেখানে দেশের বাইরে পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা, বেড়ানোর বিষয়টিই মুখ্য। এসব বিষয়ে পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে, দীর্ঘদিন ধরে পোহাতে হচ্ছে বিড়ম্বনা। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। এসব বিষয় মাথায় রেখেই পাসপোর্ট তৈরি ঝামেলামুক্ত করতে ঢাকায় পাসপোর্ট অফিসের এলাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘ঢাকায় পাসপোর্ট অফিসের এলাকা পুনর্নির্ধারণ’- শিরোনামের সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সেই পরিপত্রে বলা হয়েছে পাসপোর্ট সেবার মান বৃদ্ধি ও পাসপোর্টপ্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা পূর্ব (বনশ্রী) পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা পশ্চিম (মোহাম্মদপুর) পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা সেনানিবাস পাসপোর্ট অফিস এবং ঢাকা সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসের অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে পাসপোর্ট সেবার মান বৃদ্ধি এবং পাসপোর্টপ্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা পূর্ব (বনশ্রী) পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা পশ্চিম (মোহাম্মদপুর) পাসপোর্ট অফিস, ঢাকা সেনানিবাস পাসপোর্ট অফিস এবং সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসের অধিক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। থানাভিত্তিক এলাকাগুলো হচ্ছে আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের আওতায় শেরেবাংলা নগর, মিরপুর, কাফরুল, রূপনগর, গুলশান, বনানী, শাহবাগ, ধানম-ি ও কলাবাগান থানা। কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আওতায় শ্যামপুর, কদমতলী, কোতোয়ালি, গে-ারিয়া, সূত্রাপুর, দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ মডেল, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ, লালবাগ, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, বংশাল ও ওয়ারী থানা। উত্তরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের আওতায় উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, আশুলিয়া, পল্লবী ও ভাসানটেক থানা। ঢাকা পূর্ব (বনশ্রী) পাসপোর্ট অফিসের আওতায় ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, সবুজবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, রামপুরা, রমনা, মতিঝিল, পল্টন, বাড্ডা, ভাটারা, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিল থানা। ঢাকা পশ্চিম (মোহাম্মদপুর) পাসপোর্ট অফিসের আওতায় সাভার, ধামরাই, মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুস সালাম, শাহ আলী, হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট থানা। ঢাকা সেনানিবাস পাসপোর্ট অফিস হবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার অধীনে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য। বাংলাদেশ সচিবালয় পাসপোর্ট অফিসের আওতায় শুধু সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ৩ ধাপ এগিয়েছে। পাসপোর্টধারীরা, ভিসা ছাড়াই ৪০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। ফলে, পাসপোর্টের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। যে কারণে, মানুষের চাপ সামলাতে পাসপোর্ট অফিসের এই বিকেন্দ্রীকরণ। কিন্তু এলাকা পুনর্নির্ধারণ করার ফলে, পাসপোর্ট গ্রহীতা দালালদের হাত রেখে কি রক্ষা পাবেন? এর বাইরে রয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশন। যদিও সব মানুষের জন্য ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’ জটিল বিষয় নয়! প্রচলিত আছে, পাসপোর্ট অফিসের দেয়ালও টাকার গন্ধ জানে। ‘নোট’ ছাড়া ফাইল নড়ে না। যদিও অনলাইনে পাসপোর্ট তৈরির অনেক কাজ এগিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সেটা কি সমস্ত মানুষের বোধগম্য?
এলাকা পুনর্নির্ধারণ করে যদি সাধারণ মানুষের পাসপোর্টপ্রাপ্তি সহজ হয়, দালালের দৌরাত্ম্য কমে, তাহলে ভালো। আর যদি না কমে!
প্রত্যাশা থাকল, রাজধানীর মানুষ কোনোরকম বাধা-বিপত্তি ছাড়াই, দালালমুক্ত পরিবেশে পাসপোর্ট পাবেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে, শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায়।