মিরপুর থেকে বিমানবন্দর ১৫ মিনিট

মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগাওগাঁও অংশ চালু হওয়ার পর অনেকটাই কমেছে রাজধানী মিরপুর এলাকার যানজট। মিরপুরের কালশীর দিকে নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে সরকার। প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। খুব শিগগির ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে ফ্লাইওভারটি হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন।

মিরপুরের ইসিবি চত্বর থেকে কালশী মোড়, মিরপুর ডিওএইচএস ও মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকাজুড়ে নির্মিত এই ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার। মিরপুর এলাকার যানজট আরও কমার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মিরপুর ডিওএইচএস ও কালশীর একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পটি চালু হলে মিরপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, বনানী, মহাখালীর দিকে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। মিরপুর থেকে বিমানবন্দর এলাকায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটে যাওয়া যাবে।

গত বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের চারপাশে টুকটাক কাজ করছেন শ্রমিকরা। উদ্বোধনের জন্য প্রায় সব কাজ শেষের দিকে। নতুন ফ্লাইওভারটি দেখতে ভিড় করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্পটি অনুমোদন করে সরকার। নির্মাণের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর সময় দেওয়া সাপেক্ষে যেকোনো সময় প্রকল্পটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী সংস্থা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উদ্বোধনের পর থেকে প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে ডিএনসিসি।

মিরপুরের পূরবী এলাকার বাসিন্দা মো. তুহিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেত চারপাশ। এখন ফ্লাইওভার হয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাটও নতুন করে বেশ সম্প্রসারণ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগের ভোগান্তি আর হবে না।’ সিলেটের দিরাই উপজেলার নাসির উদ্দীনের এক যুগের বেশি সময় ধরে মিরপুর এলাকায় পুরানো ভাঙাড়ির ব্যবসা। তিনি বলেন, ‘কালশী এলাকার আশপাশের রাস্তায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে বসে থাকতে হয়। এখন ফ্লাইওভার করায় সে যানজট কমে যাবে। পাশাপাশি আমাদের ব্যবসায়ীদেরও যোগাযোগর সময় বাঁচবে।’ 

নবাব উল্লাহ ডিওএইচএস এলাকায় ১০ বছর ধরে রিকশা চালান। তিনি বলেন, ‘এই ফ্লাইওভার হওয়ায় আমাদের রিকশাচালকদের জন্য অনেক উপকার হবে। এখন এই এলাকা দিয়ে রিকশা চলাচল করার জন্য আলাদা একটি লেন হয়েছে। অনেক সময় বড় বড় গাড়ির জন্য এই রোড দিয়ে চালাতে নানা রকম দুর্ঘটনায় পড়তে হতো। এখন আলাদা লেন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’  

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী মো. সেলিম রেজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কালশীর ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর প্রধানমন্ত্রী এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন। এখনো সময় ঠিক করা হয়নি। তবে খুব দ্রুত সময় ঠিক করে ফ্লাইওভার চালু করা হবে। ফ্লাইওভার চালু হলে এলাকার যানজট অনেকটাই কমে আসবে।’