সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার রাস্তা, অলিগলি, ইট, বালুসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ঠাসা। এ কারণে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। গাছের পাতা ও ঘরের চাল ধুলাবালিতে ঢাকা পড়েছে।
১৭ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার (৭ দশমিক ৪৩ মাইল) এই পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা স্থাপনা গড়ে উঠলেও বায়ুদূষণ প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রাস্তার ওপর যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় এর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করায় বাতাসে তৈরি ধূলার কুণ্ডলী পরিবেশ নষ্ট করছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
পৌরসদরের মনিরামপুর, দ্বারিয়াপুর, থানার ঘাট, রামবাড়ি, ভেরুয়াদহ এলাকায় বেশ ক'টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, তার স্কুল পৌরসভার ব্যস্ততম সড়কের পাশে হওয়ায় ক্লাসরুমের দরজা-জানালা বন্ধ করেও ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।
পৌরসভার টিএলসিসির সদস্য মীর বাবুল জানান, পৌরসভার সব ধরনের উন্নয়ন আমরা চাই। কিন্তু সেটি কারো অসুবিধা করে নয়। বায়ুদূষণ নিয়ে টিএলসিসির সভায় অনেকবার কথা হয়েছে কিন্তু দূষণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হরিপদ রায় জানান, এ এলাকার প্রায় সব রাস্তাই সরু। রাস্তা, অলি-গলি সর্বত্রই নির্মাণ সামগ্রী রেখে নির্মাণ কাজ হচ্ছে। আইন মানাতে গেলে বিপত্তি বাঁধে। আইনের কথা বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না আসলে শুধু আইন করে কোনো লাভ হবে না।
মেয়র মনির আক্তার খান বলেন, বার বার জনসাধারণকে এ ব্যাপারে সচেতন করা হলেও তারা কর্ণপাত করছে না। ফলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মাসুদ রানা জানান, বায়ুদূষণরোধে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হলে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে না।