ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন ১১ জেলে

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জেলে ৬ মাস কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন।

ফিরে এসেছেন: মো. আলী হোসেন, মো. সামছুল হক, আব্দুল জলিল মিয়া, মো. নবী হোসেন, মো. খলিল মীর, ফারুক মীর, মো. মুছা, মো. রুবেল, মো. রুস্তম, মো.হারুন ও হাফিজুর রহমান। তাদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকায়।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ছয়টায় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন জেলেরা। বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি গ্রামের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান জেলেরা। দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের পর দেশে ফিরে স্বজনদের কাছে পেয়ে চরদুয়ানি এলাকায় এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

২০২২ সালের ১৫ আগস্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে এফবি ফাতেমা নামের একটি মাছ ধরা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করে। এ সময় ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এলাকার ছোট মোল্লাখালী কোষ্টাল এলাকা থেকে ট্রলারসহ আটক ১১ জেলেকে ভারতের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেখানের স্থানীয় জেলেরা। ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জেলে দের ফিরে আসা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভারতে থাকা জেলেদের ফিরিয়ে আনার জন্য একাধিকবার ভারতে গিয়েছি। তারা ফিরে আসায় পাথরঘাটার জেলেদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা পর জেলেরা ফিরে এসেছে এটা স্বস্তির খবর। জেলেদের শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। সকল জেলে পরিবারকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তাসহ সকল সহযোগিতায় করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১১ আগস্ট এফবি ফাতেমা ট্রলারটি নিয়ে ১১ জেলে সাগরে মাছ ধরাতে যান। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন চরদুয়ানী ইউনিয়নের সামছুল হক। এর দুই দিন পর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এর পর তারা ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে। পরে স্থানীয় জেলেরা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।