চলতি মৌসুমে মাগুরায় এ পর্যন্ত কোনো ধান সংগ্রহ করা যায়নি। সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর পর প্রায় তিন মাসে এক ছটাক ধানও গুদামে সংগ্রহ করা যায়নি। বাজার মূল্যের চেয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাদ্য অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে জেলার চার উপজেলায় ৩ হাজার ৭৭০ টন ধান ও ১ হাজার ২৯১ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযান ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করা যায়নি। তবে এ সময়ের মধ্যে ৬৫০ টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, প্রতি মণ চাল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে প্রতি মণ ধানের সরকারি মূল্য ১ হাজার ১২০, চালের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৬৮০ টাকা ধরা হয়েছে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোজিত কুমার মজুমদার বলেন, বাজারের সঙ্গে দামের তারতম্যের কারণে এ অবস্থা হতে পারে। জেলার ১০৯ জন মিলার রয়েছেন। তার মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০ জন চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন মাত্র ৬৫০ টন চাল সরকারি গুদামে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদরের ধলহরা গ্রামের কৃষক আবদুল গফফার জানান, প্রতি বছর তিনি সরকারি গুদামে ধান দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর জ¦ালানি ও সারের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ মণপ্রতি কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু সরকার দাম দিচ্ছে মাত্র ১ হাজার ১২০ টাকা। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৬০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে এ বছর অনেকে সরকারি গুদামে ধান দিচ্ছেন না। একই ধরনের কথা বলেছেন সদরের হাজিপুরের কৃষক হামিদুল হক বিপু।
সদরের বাটিকাডাঙ্গার মিলার সুজিত প্রামাণিক বলেন, বর্তমান বাজারের তুলনায় চালের সরকারি সংগ্রহমূল্য কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম। এ কারণে ধান সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ায় সরকারি গুদামে চাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।