ভূমিকম্পে প্রাণহানি ১০ হাজার ছুঁইছুঁই

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক-সিরিয়ায় সময়ের সঙ্গে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। দেশ দুটিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কে ৭ হাজার ১০৮ এবং সিরিয়ায় ২ হাজার ৫৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ। আহত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি। অপরদিকে সিরিয়ায় খালিহাতেই চলছে উদ্ধারকাজ। ভূমিকম্পের পর তুরস্ক-সিরিয়ায় উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জরুরি চিকিৎসক দল পাঠানোর কথাও ভাবছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪টা ১৭ মিনিটে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। ভূমিকম্পটি যখন আঘাত হানে, তখন বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন।

এরপর দফায় দফায় আরও কয়েকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে তুরস্কে। এতে ধসে পড়েছে হাজার হাজার ভবন। এসব ভবনের নিচে আটকা পড়েছে বহু মানুষ। তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষ। তবে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র ঠাণ্ডা, তুষারপাত ও বৃষ্টি। সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটের দাবি, ধ্বংসাবশেষ সরানো গেলে প্রাণহানি আরো বাড়বে। প্রসঙ্গত, তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা বরাবরই ভূমিকম্প প্রবণ।