দুই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হতাহত ২

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আরিফুল ইসলাম (৩০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে ভারতের পাকুড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ফরিদ (৩০) নামে বাংলাদেশি এক পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, শ্যামকুড় সীমান্তে নিহত আরিফুল ইসলাম শ্যামকুড় পশ্চিমপাড়ার মৃত আফেজ উদ্দিনের ছেলে। শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বরাতে তিনি জানান, আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন সীমান্তের ওপারে গরু আনতে যান। ভোররাতে ফেরার পথে ভারতের পাখিউড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যসের সামনে পড়েন তারা। সে সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে অন্যরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আরিফুল ইসলাম।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ভারত অভ্যন্তরে রয়েছে। আমরা লাশ দেশে ফেরত আনার জন্য বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

নিহত আরিফুল ইসলাম স্ত্রী মোছা. জিনিয়া খাতুন বলেন, আমি বাড়ি ছিলাম না, কখন আমার স্বামী ভারতে গেছেন বলতে পারব না। সকালে জানতে পারলাম তিনি বিএসএফর গুলিতে মারা গেছেন। যেভাবেই হোক আমার স্বামীর লাশটি চাই।

মা নুর জাহান বেগম বলেন, রাতে এক সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার পর আরিফুল ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সে যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে তা টের পাইনি। সকালে খবর শুনলাম আমার ছেলেকে বিএসএফ গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই।

মহেশপুর খালিশপুর ৫৮ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ রানা বলেন, যিনি মারা গেছেন তিনি একজন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় বিকেলে বিএসএফের সঙ্গে আমরা কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করেছি। তবে এখনো লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। লাশ শনাক্ত হলে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।

এদিকে পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের জায়গীরজোত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ফরিদ (৩০) নামে এক পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে বাংলাবান্ধা এলাকার জায়গীরজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৩১-এর সাব পিলার ৭-এর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পাথর শ্রমিক ফরিদ জায়গীরজোত গ্রামের তসিরুলের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি সূত্রে জানায়, প্রতিদিনের মতো পাথর শ্রমিকের একটি দল মহানন্দা নদীর বালুর সøাব কেটে পাথর উত্তোলন শুরু করে। এ সময় ভারতের ১৭৬ ব্যাটালিয়ন মহানন্দা বিওপির টহলরত বিএসএফ জোয়ানরা তাদের দেখে অতর্কিতভাবে গুলি ছোড়ে। তখন ফরিদ বাম পায়ের হাঁটুর ওপর উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় অন্য পাথর শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহফুজুল হক জানান, অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকে বসার জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে। ওই এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।