সাবিনাদের হিমালয়ের বুকে ফুল ফোটানো নেপালের হৃদয়দাহ করেছিল। সেই অনল নেভাতে প্রতিশোধের পণ নিয়েছিল তারা। প্রস্তুত ছিল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল মঞ্চ। তবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে বদলা আর নেওয়া হলো না হিমালয় কন্যাদের। শামসুন্নাহারদের কাছে ৩-০ হেরে আরও একবার শিরোপা বঞ্চিত হয়েছে তারা। তাতে ঘরের মাঠের শিরোপাটা নিজেদের কাছে গচ্ছিত রেখে দিলেন লাল-সুবজের মেয়েরা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল বাংলাদেশ। শামসুন্নাহারদের একের পর এক আক্রমণে নাকাল হচ্ছিল নেপাল। একাধিকবার সুযোগও পেয়েছিল লাল-সবুজরা। কিন্তু ফিনিশারদের ব্যর্থতায় সেই চেষ্টা বৃথা যায়।
খেলার সময় যখন ৩৮ মিনিটে গড়ায়, তখনই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে। বাংলাদেশের ১০ নম্বর জার্সিধারি রিপা জোরালো একটি শট নেন। তবে নেপালের গোলরক্ষক কবিতা সেটা জালে জড়াতে দেননি। ফলে এগিয়ে যাওয়ার আরও একটি চেষ্টা বিফলে যায়।
চার মিনিট পর আরও একবার সুযোগ আসে। রিপা এবার আর কোনো ভুল করলেন না। তার শটটি কবিতার হাতে লেগে বল গিয়ে জড়ায় জালে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
তাতেও যেন ক্ষিদে মিটেনি বাংলাদেশের। বিরতির আগে অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। খেলার ৪৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ে শামসুন্নাহারের গোলে। আকলিমার বাড়িয়ে দেওয়া বল নেপালের ফুটবলারদের পাশ কাটিয়ে তিনি চলে যান ডি বক্সের ভেতরে। সেখান থেকেই বল জড়ান নেপালের জালে। এই গোলে টুর্নামেন্টে পঞ্চমবার প্রতিপক্ষের জাল কাপান তিনি। তাতে হয়ে গেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল শিকারি।
দুই গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। তবে নেপালও মরিয়া হয়ে ওঠে, গোল শোধের জন্য যেন তারাও ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছিল। কয়েকবার সুযোগও আসে। তবে সুযোগই নষ্ট হয়। একই পরিণতি হয় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যদের বেলায়ও।
ম্যাচের সময় যতো গড়িয়ে যাচ্ছিল, ততোই মনে হচ্ছিল ম্যাচের পরিণতি হয়তো ২-০ গোলেই শেষ হবে। ৭৩ মিনিটে রিপা নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ৮০ মিনিটে রুপনা চাকমা গোল মিস করেন। তাতে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল গোল সংখ্যা আর বাড়ছে না।
তবে ৮৬ মিনিটে ফ্রি কিক পায় বাংলাদেশ। ডি বক্সের খুব কাছে থেকে শট নিয়ে গোলটি করেন রিপার বদলী হিসেবে নামা উন্নতি খাতুন। আর তাতেই ব্যবধান বেড়ে হয় ৩-০। সেই গোলের ৯ মিনিট পর বেজে উঠে রেফারির শেষ বাঁশি। উল্লাসে মেতে উঠেন শামসুন্নাহাররা। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এর শিরোপা নিজেদের করে নিলেন শামসুন্নাহাররা।
গত সেপ্টেম্বরে নেপালকে তাদের মাটিতে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল বাংলাদেশ। পরের মাসে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নেপাল নিলেও এবার ঘরের ২০ বছর বয়সীদের ২৩ সালের শিরোপাটা ঘরেই রেখে দিয়েছেন রিপা-রুপনারা।