প্রতিশ্রুতির বর্ষণে সিক্ত জেলেনস্কি

ইউক্রেনের শঙ্কা বসন্ত যত এগিয়ে আসছে, তত ঘনিয়ে আসছে রাশিয়ার বড় আক্রমণ। আক্রমণ ঠেকাতে পশ্চিমা মিত্রদের ট্যাংকের প্রতিশ্রুতি পেলেও পোষাচ্ছে না আর। এখন আরও অস্ত্র, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান পেতে মরিয়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গেছেন ইউরোপে। শুরুতেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, চেয়েছেন  যুদ্ধবিমান। এই আবদারে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং উপযোগী যুদ্ধবিমান দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই সফলতার পর জেলেনস্কি ফ্রান্সে উড়াল দেন। অবরতণ করেন প্যারিসের ওরলি বিমানবন্দরে। সেখানে তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুর্নো। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফরাসি প্রেসিডেন্ট প্যালেস এলিজে। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলফ শলৎজ।

যুদ্ধ শুরুর পর একসঙ্গে তিন নেতার প্রথম সাক্ষাৎ। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি, দেশটির বিজয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই যুদ্ধে জয়ের জন্য ফ্রান্স এবং তার মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে পারে ইউক্রেন। রাশিয়া এই যুদ্ধে বিজয় লাভ করতে পারবে না।’ কিয়েভকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। সম্প্রতি ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ট্যাংক সহায়তার ঘোষণা দেয় জার্মানি। এসব ট্যাংক দ্রুত ইউক্রেনে সরবরাহের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কিকে আশ^স্ত করে জার্মান চ্যান্সেলর শলৎজ বলেন, ‘যত দিন প্রয়োজন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাবে জার্মানি। এই যুদ্ধে মস্কোর বিজয়ী হওয়া উচিত নয়।’ অন্যদিকে জেলেনস্কি মিত্রদের বলেন, ‘ফ্রান্স ও জার্মানির এই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে, এই আলোচনাকে আমি সে রকমভাবেই দেখছি। যত দ্রুত আমরা ভারী দূরপাল্লার অস্ত্র পাব, আমাদের পাইলটরা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাবে, তত দ্রুত রাশিয়ার আগ্রাসনের সমাপ্তি ঘটবে।’

ইউরোপীয় তিন প্রভাবশালী মিত্রের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি গেছেন ব্রাসেলসে। লক্ষ্য মূলত দুটো সামরিক সহায়তার জন্য পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) আরও ঘনিষ্ঠভাবে পাশে পেতে, দুই. ইউক্রেনের ইইউতে যোগ দেওয়ার পুরনো দাবি আরও জোরালো করতে। ব্রাসেলসে পৌঁছে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এখানেই ইইউ সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, চাইবেন রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্ররা যেন যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেয়।