সিরিয়ায় সোমবারের ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে নতুন একটি নাম ও সেই সঙ্গে বসবাসের জন্য নতুন বাড়ি দেওয়া হয়েছে। নাম রাখা হয়েছে আয়া, আরবিতে যার অর্থ অলৌকিক। সিরিয়ার জেন্দেরিস শহরে ভূমিকম্পের সময় আয়াকে জন্ম দেওয়ার পর তার মা মারা যান।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মায়ের মৃতদেহের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। ভূমিকম্পে তার বাবা ও ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাই মারা গেছে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তার বাবার চাচা। ভূমিকম্পে তার সালাহ আল-বাদরান শহরের বাড়িটি ধ্বংস গেছে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটা তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন।
শিশু আয়াকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের ঘটনার একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ধসে পড়া চারতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে ধুলোয় ঢেকে থাকা একটা ছোট শিশুকে জড়িয়ে ধরেছেন।
ভিডিওতে দ্বিতীয় ব্যক্তি দেখা যায় (শূন্যের নিচে থাকা তাপমাত্রা) শিশুটির জন্য একটা কম্বল নিয়ে দৌড়ে আসতে এবং তৃতীয়জন তাকে হাসপাতলে নেওয়ার জন্য একটা গাড়ির জন্য চিৎকার করছেন।
ইতিমধ্যে হাজারেরও বেশি মানুষ ওই কন্যাশিশুটিকে দত্তক নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
শিশুটিকে সিরিয়ার আফরিন শহরের নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে ক্ষত আছে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না সে। এক চিকিৎসকের স্ত্রীকে দেখা গেছে শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে।
হাসপাতালসূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে শিশুটির হাইপোথোর্মিয়া হয়েছে। তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাকে ক্যালশিয়াম দেওয়া হয়েছে।