যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সামাজিক রক্ষণশীলতা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানো, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণসহ বিভিন্ন অধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় এবার মহাকাশে যাচ্ছেন সৌদি নারী।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবর, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মহাকাশে প্রথম নারী নভোচারী পাঠাচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি নারী নভোচারীর নাম রায়ানা বারনাওয়ি। বয়স ৩৩ বছর। চলতি বছরই রায়ানার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন সৌদি আরবের আরেক নভোচারী আলি আল-কারনি। সেখানে তারা এএক্স-২ মহাকাশ মিশনে অবস্থানরত নভোচারীদের সঙ্গে যুক্ত হবেন। তাদের বহনকারী রকেটটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে ২০১৯ সালে মহাকাশ অভিযান শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই বছর দেশটির একজন নভোচারী মহাকাশে যান। দেশটির নভোচারী হাজ্জা আল-মানসৌরি আট দিন আইএসএসে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে মহাকাশে যান আমিরাতের নভোচারী সুলতান আল-নিয়াদি। তিনি প্রথম আরব নভোচারী হিসেবে টানা ছয় মাস মহাকাশে অবস্থান করেন।
এর আগে ১৯৮৫ সালে সৌদি আরবের তখনকার যুবরাজ সুলতান বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রথম আরব মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিযানের অংশ হয়ে মহাকাশে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলট ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে নতুন করে মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর উদ্যোগ শুরু করে সৌদি আরব। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুবরাজ সালমানের ভিশন ২০৩০ এজেন্ডার অংশ এই মহাকাশ মিশন। মোহাম্মদ বিন সালমান আসলে সংস্কারের জন্য চাপ দিয়ে দেশটির কঠোর ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। ২০১৭ সালে তার ক্ষমতায় উত্থানের পর থেকে, নারীদের গাড়ি চালানোর এবং পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।