ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে নবীন এক ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইবি ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা, প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। এর আগে গত রবিবার রাতে তিনি নির্যাতনের শিকার হন বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শেখ হাসিনা হল প্রশাসন। এদিকে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা।
কয়েক দিন আগেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) চার শিক্ষার্থীকে কলেজ ছাত্রাবাসে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যাদের মধ্যে গুরুতর দুজনকে নিতে হয় আইসিইউতে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার ইবিতে ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠল।
ইবিতে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী। তার দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নবীনবরণের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশরতœ শেখ হাসিনা হলের একটি কক্ষে অতিথি হিসেবে অবস্থান করেন। পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণের অভিযোগ করেন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ও ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরা। এরপর সন্ধ্যায় তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান তারা। এ সময় হল প্রভোস্ট ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়। পরে রাতেই নবীন ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন ছাত্রলীগ নেত্রী অন্তরা ও তাবাসসুমসহ কয়েকজন। এ সময় তাকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। তাদের পা ধরে ক্ষমা চাইতে গেলে লাথি মারেন তারা। এ ছাড়া জোর করে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন এবং নির্যাতনের বিষয়ে কাউকে কিছু বললে ওই ভিডিও ছড়িয়ে (ভাইরাল) দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়াও নবীন এ শিক্ষার্থীকে দিয়ে ময়লা গ্লাস চেটে পরিষ্কার করানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে পরদিন সোমবার সকালেই হল ছেড়ে বাসায় চলে যান তিনি। পরদিন মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে এসে নির্যাতনের ঘটনা জানিয়ে বিচার চেয়ে প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় অধ্যাপক ড. আহসান উল আম্বিয়াকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শেখ হাসিনা হল প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসরাত জাহান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার ও হলের কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক।
নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেন, ‘ওই মেয়েই তার বড় ভাইকে দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছিল। সে যদি অভিযোগ করে, তাহলে তাকে প্রমাণ দিতে বলেন। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
এ প্রসঙ্গে ইবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ‘ওই মেয়ের (নির্যাতনের শিকার) সঙ্গে সিনিয়রদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে প্রভোস্ট স্যার ও সহকারী প্রক্টর স্যারদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছিল। এরপর যদি কেউ তাকে হেনস্তা করে, তাহলে বিষয়টি চরম অন্যায়। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা এক ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রীকে র্যাগ দেওয়া হয়েছে এমনটি অভিযোগ করেছে। উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রভোস্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রীরাও আবার উপাচার্যের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে এর সমাধান করা হবে।’
আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়টি আমি শুনেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো র্যাগিং ছিল না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়গুলোকে অ্যালাউ করে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’