বিবিসির দিল্লি-মুম্বাই কার্যালয়ে ৬০ ঘণ্টা পর শেষ হলো তল্লাশি

ভারতে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) দিল্লি ও মুম্বাই কার্যালয়ে প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর আয়কর বিভাগের তল্লাশি শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই তল্লাশি শেষ হয়। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির। আজ তল্লাশির বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে দেশটির আয়কর বিভাগ।

আয়কর বিভাগের কর্তারা ‘তল্লাশি’ শেষে বের হয়ে যাওয়ার পর এক টুইট বার্তায় বলেছে, আয়কর বিভাগের কর্তারা দিল্লি ও মুম্বাই অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাব। আশা করছি দ্রুত এর নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

আরও লিখেছে, আমাদের কর্মী যারা এতক্ষণ অফিসে রয়েছেন বা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের খেয়াল রাখা আমাদের অগ্রাধিকারে রয়েছে। পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। আমরা ভারত ও ভারতের বাইরের দর্শক-শ্রোতাদের খবর পরিবেশন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবিসি একটি বিশ্বস্ত, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। আমরা আমাদের সহকর্মী এবং সাংবাদিকদের পাশে আছি, যারা ভয় এবং পক্ষপাত ছাড়াই খবর পরিবেশন করেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

তবে আয়কর বিভাগ এই অভিযানকে ‘রুটিন তল্লাশি’ বলে দাবি করেছে। মূলত করফাঁকি ও ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়কর দপ্তর। সরকারি একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, আয়কর কর্মকর্তারা সংস্থার কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ‘শেল কোম্পানি’, ‘ফান্ড ট্রান্সফার’, ‘ফরেন ট্রান্সফার’-এর মতো শব্দগুলো খুঁজেছেন। পাশাপাশি, বিবিসির আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিভিন্ন বৈদ্যুতিন এবং কাগুজে নথির প্রতিলিপি করা হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগেই বিবিসি-র তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোয়েশ্চেন’-এ দু’দশক আগে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় গোধরাকাণ্ড এবং তার পরবর্তী সাম্প্রদায়িক হিংসার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল ভারত সরকার। একে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে তথ্যচিত্রটি তৈরি। যদিও বিবিসি দাবি করে, যথেষ্ট গবেষণা করে তথ্যচিত্রটি বানানো হয়েছে।

জানুয়ারির শেষে কেন্দ্রের তরফে ইউটিউব এবং টুইটারকে বিবিসি-র তথ্যচিত্রের লিঙ্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তুলে নিতে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, আইটি রুলস ২০২১-এর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে একাধিক টুইট তুলে নেওয়ার জন্যও দেশটির তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা তখন থেকেই বিষয়টি ‘সেন্সরশিপ’ আখ্যা দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার বিবিসির দপ্তরে আয়কর হানার শুরুর পরে সরকারের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টও বিবিসি-র তথ্যচিত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞার আর্জিকে খারিজ করে দিয়েছে।