খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে থেকে চুরি হওয়া নবজাতককে ২৪ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে আসা হয়।
নবজাতক শিশু বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গের তোরাব আলী ও রানীমা বেগমের ছেলে। শিশুটিকে বর্তমানে খুমেকের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) টেস্টের জন্য রাখা হয়েছে।
নবজাতকের মামা মোস্তফা জানান, দিঘলিয়া উপজেলার সেনেরবাজারে তাদের আত্মীয় আছে। এছাড়া নড়াইলেও তাদের আত্মীয় রয়েছে। সেই সূত্রে সবাইকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল তাদের নবজাতক শিশু হারিয়ে গেছে। কোনো জায়গায় যদি নবজাতক শিশু কেনাবেচা হয়, বা কারো বাড়ি যদি নবজাতক জন্ম হওয়ার কথা না থাকলেও নবজাতক দেখে তাহলে যেন তাদের খবর দেয়। সেইভাবে আমরা খবর পাই। পরে নড়াইলের কালিয়ায় যে বাড়িতে শিশুটিকে রাখা হয়েছিল সেখানে যাওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযান চালিয়ে নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে। এছাড়া যে নারী নবজাতক শিশুটিকে কিনেছিল তাকে ও তার স্বামীসহ আরও দুইজন নারীকে পুলিশ সোনাডাঙ্গা থানায় নিয়ে আসে। তারা বলেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তারা নবজাতক শিশুটিকে ঢাকা থেকে কিনে এনেছে।
নবজাতক শিশুটির বাবা তোরাব আলী ও মা রানীমা বেগম বলেন, আল্লাহর কাছে আমরা অনেক শোকর আদায় করছি। এজন্য পুলিশ ও র্যাবসহ যারা আমাদের শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আমরা আমাদের বাচ্চাকে চিনতে পেরেছি। এটাই আমাদের বাচ্চা।
তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক তোফায়েল হোসেন বলেন, খুমেক হাসপাতাল থেকে গত ২৪ জানুয়ারি বিকালে ওই নবজাতককে চুরি করা হয়। এ ঘটনায় ২৫ জানুয়ারি নবজাতকের নানা বেলায়েত হোসেন মামলা করার পর পুলিশ অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়ার পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, এ ঘটনায় যাদের কাছে শিশুটিকে পাওয়া গেছে তাদের থানায় এনে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের আবার ডাকা হবে। তবে, তারা যাদের কাছ থেকে বাচ্চাটি নিয়েছে তাদেরকেও হাজিরের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিশুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য শিশুটি বর্তমানে মায়ের সঙ্গে খুমেক হাসপাতালের ওসিসিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গ গ্রামের তোরাব আলী গত ২৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুমেক হাসপাতালে তার স্ত্রী রানীমাকে নিয়ে আসেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তার স্ত্রী একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। বিকালে বাচ্চা নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করতে যান তোরাব আলী। এ সময় তার সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই চালক গাড়ি নিয়ে এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু তিনি আগে যে গাড়ি দেখিয়েছিলেন সেটা না এনে ছোট গাড়ি নিয়ে আসেন। তখন তোরাব আলীর সঙ্গে ওই চালক ও তার লোকদের কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় নবজাতকের নানা, বাবা ও মামার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই সময় নবজাতক তার খালার কাছে ছিল। তখন বোরখা পরা এক নারীর কাছে নবজাতক শিশুটিকে দিয়ে সে তার বাবা ও ভাইকে উদ্ধারে যান। মারামারি শেষে এসে দেখেন বাচ্চাসহ সেই নারী পালিয়েছে।