সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে

সকালে ঘুম ভাঙতেই চায় না। এতে প্রায়ই অফিসে পৌঁছতে দেরি। সকালে ওঠার অভ্যাস করার জন্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্লিপ সাইকেল। সেই স্লিপ সাইকেলের উপরই নির্ভর করে সব কিছু। আপনি টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ুন বা নিয়ম মেনে ধ্যান করে ঘুমোতে যান, আপনার শরীর এই স্লিপ সাইকেল মেনেই চলবে। শুধু তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া মানেই কিন্তু রাতে ভাল ঘুম হওয়া নয়। সকালে নির্দিষ্ট সময় ঘুম ভাঙাও ভাল ঘুমের লক্ষণ। আমাদের রোজকার কিছু অভ্যাস সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে বাধা দেয়। জেনে নিন রোজকার কোন কোন ভুলের কারণে এমনটা হয়।

রাতে ভারী খাবার

রাতে ডাল, রাজমা, তরকার মতো দানাশস্য খেলে তা হজম হতে অনেক বেশি সময় নেয়। খেয়েই বিছানায় চলে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে আরও ব্যহত করে। রাতে ভারী খাবার খেলে শরীরের অতিরিক্ত সময় চাই তা হজম করতে। সেক্ষেত্রে বেশিক্ষণের ঘুম প্রয়োজন। বদলে রাতে সবজি, স্যুপের মতো হালকা খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। তাই সকালে ঘুমও ভাঙে তাড়াতাড়ি।

রাতের দিকে চা-কফি খাওয়া

সন্ধ্যাবেলা কিংবা রাতেও চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কাপের পর কাপে চুমুক না দিলে আড্ডা জমে না, কাজে মন বসে না এমন কথাও অনেকে বলেন। চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন ঘুম আসতে বাধা দেয়। তাই রাতে দীর্ঘক্ষণ রাত জাগতে হয় আমাদের। সন্ধ্যার পর কোনও পানীয় খেতে মন চাইলে সাধারণ দুধ চা কিংবা কফির বদলে ভেষজ চা খেতে পারেন, এতে ঘুম ভাল হয়।

রাতে মিষ্টি খাওয়া

রাতে খাওয়াদাওয়ার পর মিষ্টি না খেলে চলে না, এমন অনেকেই আছেন। রাতে খাওয়ার পর মিষ্টি খেলে শরীরের শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। ফলে যখন শরীর ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সেই সময় শরীর আরও বেশি চাঙ্গা অনুভব করে। ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়।

সন্ধ্যার পর বেশি পানি খাওয়া

পানি শরীরের পক্ষে ভীষণ জরুরি। তবে সন্ধ্যার পর থেকে বেশি করে পানি খেলে রাতে প্রস্রাবের জন্য বার বার উঠতে হয়। তাই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। পরের দিন উঠতেও দেরি হয়। তাই সকালবেলা পানির মাত্রা বাড়িয়ে সন্ধ্যার পর থেকে কমিয়ে দেওয়াই ভাল।