পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে খাদ্য সংকট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া, সিন্ধু এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের অনেক এলাকায় শস্য ও আটার সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বেশি, বিনামূল্যের বিদ্যুৎ না থাকা এবং ভর্তুকি না পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরাও।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পাকপত্তন জেলার কৃষক তেহসিন আতহার গত বছরের এপ্রিলে তার ৮ একর জমিতে গম চাষ করেছিলেন, যা ১০০ কেজি সাড়ে পাঁচ হাজার রুপিতে বিক্রি হয় সেসময়। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার রুপিতে। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
তবে দাম বাড়লেও এতে লাভ হচ্ছে না কৃষকদের বলছেন তারা। কোন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ নেই। এমনকি ভর্তুকিযুক্ত সারও পান না তারা। এক ব্যাগ সারের জন্য ১৮ হাজার থেকে ২৬ হাজার রুপি গুনতে হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। এতে করে কমেছে চাষের পরিমাণ।
সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। দীর্ঘসময় ট্রাকের পেছনে দাঁড়িয়ে থেকেও আটা পাচ্ছেন না অনেক মানুষ। দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা। দীর্ঘ সারি এবং লোকেরা গমের ট্রাককে তাড়া করায় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী গম উৎপাদনকারী দুটি রাজ্য পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতেই গমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকার উপর। অন্যান্য রাজ্যে আরও দাম বেশি আর সরবরাহ অপ্রতুল।
বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।