রাজধানীতে বায়ুদূষণের মাত্রায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষক সংস্থা একিউএয়ারের তথ্য মতে বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই-বায়ুর মান সূচক) স্কোর ১৬৪ নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল ৭ম। বিশ্বের দূষিত ৫ শহরের তালিকায় রয়েছে দিল্লি (ভারত), বাগদাদ (ইরাক), আক্রা (ঘানা), মুম্বাই (ভারত), ক্রাসনোয়ারস্ক (রাশিয়া)।
এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় একিউআই স্কোর ৩৩০ নিয়ে শীর্ষে ছিল। ঢাকায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৯ দিন রাজধানীতে বায়ুর মান ছিল ৩০০'র উপরে যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তবে এর পর থেকে ঢাকার বায়ুদূষণের মান কিছুটা কমতে থাকে। ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল ১৮৭ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ১৬০। যা কিছুটা উন্নতির চিত্র।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
স্ট্যামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপসে) পরিচালক ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান তাদের গবেষণায় বায়ুদূষণের ৬টি কারণ ও উৎস খুঁজে পেয়েছেন। উৎসগুলো হচ্ছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজ, ইটের ভাটা ও শিল্প-কারখানা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে ছড়ানো দূষণ, বর্জ্য পোড়ানো, এবং কাট-কয়লা পুড়িয়ে রান্নার কাজ থেকে বায়ুদূষণ হয়ে থাকে।
তিনি জানান, প্রাকৃতিক কারণ, ভৌগোলিক কারণ,অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে তারা দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে খুঁজে পেয়ছেন। এর বাইরেও ছোট বড় আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
দূষণ প্রতিরোধে, নির্মাণবিধি মেনে চলা, প্রকল্পের মেয়াদ দীর্ঘায়িত না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করা, ইন্ডাস্ট্রি ইটের ভাটাকে পরিবেশ আইন মানতে বাধ্য করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানো, রান্না-রান্নার ক্ষেত্রে উন্নত জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে, যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ্ করতে পরামর্শ দেন এই গবেষক।