সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা আলোচিত মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে দুদক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হকের সই করা একটি চিঠি বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসে পৌঁছায়।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া পাঁচজন হলেন মন্ত্রীপুত্র মুজিবুর রহমান, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) মো. সারওয়ার হোসেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষিণ জোনের টেকনিশিয়ান (সার্ভেয়ার) মো. দিদারুল আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক জানান, ২০২১ সালের ১০ জুন মামলাটি দায়ের করেছিলেন দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (চাকরিচ্যুত) শরীফ উদ্দিন।
সূত্র জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মন্ত্রীপুত্রসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অনুমোদন দিয়েছে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক।
দুদকের সাবেক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা এম এ সালামের (বর্তমানে মৃত) নামে বরাদ্দ করা ১৮টি অব্যবহৃত দ্বৈত চুলার গ্যাস সংযোগ ছিল। এর মধ্যে ১২টি নগরের চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকার গ্রাহক মন্ত্রীপুত্র মুজিবুর রহমানের নামে স্থানান্তর করা হয়। এ কাজে সালামের স্ত্রীর নামে ভুয়া চুক্তিনামাও করা হয়। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকলেও সে সিদ্ধান্ত অমান্য করে মুজিবুরের নামে আরো ১০টি সংযোগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ সময়কালে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গ্রাহক মুজিবুরের নামে মোট ২২টি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়। মামলা হওয়ার তিন দিন পর ২০২১ সালের ১৩ জুন অবৈধ ২২টি সংযোগ বিছিন্ন করে কেজিডিসিএল। কেজিডিসিএলের তিন কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।