‘এদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে থাকবে’

তিনি ভারতীয় হলেও মাতৃভাষাটা বাংলা। তাই বাংলাদেশিদের কাছে তিনি আপনজন। আরও একটা কারণে তিনি জড়িয়ে আছেন দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। আর ২০০০-এর ১০ নভেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে প্রতিপক্ষকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তাই এদেশের ক্রিকেট যতদিন আছে, তার নামটাও জড়িয়ে থাকবে। তিনি নিজেও বলেছেন সেই কথাই।

বলা হচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ভারতীয় বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির কথা। গতকাল এসে নিজেও জানালেন বাংলাদেশের ক্রিকেট আর তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ২০১৪ সালে শেষবার ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। প্রায় ৯ বছর পর আবার এসে এদেশের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি।

মানুষের ভালোবাসার ভারে তিনি বুঝতে পারেন না এটা ভারত না বাংলাদেশ। বলেছেন, ‘অনেক দিন বাদে ঢাকায় এলাম। সবশেষ বোধ হয় এসেছিলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়। মিরপুরে ফাইনালে যে ম্যাচটা ভারত শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায়। বিভিন্ন কাজে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় আর সময় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু একটা কথা বলি, যতবারই আমি এখানে আসি, বুঝতে পারি না এটা ভারত না বাংলাদেশ।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মেয়র কাপের শুভেচ্ছাদূত হয়ে ঢাকায় আসা সৌরভ গাঙ্গুলির। গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে রকিবুল হাসান, আতহার আলী খান, আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলটদের সঙ্গে নিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন শেষে সৌরভ জানালেন ঢাকায় আসার কারণটা, ‘মেয়র কাপ নামে একটি টুর্নামেন্ট কলকাতাতেও হয়। যেখানে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল-বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা হয়ে থাকে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের পরিচালনায় আমরা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করি।’

সৌরভের প্রথম ঢাকায় আসা ১৯৮৯ সালে, বেক্সিমকো যুব এশিয়া কাপে ভারতের হয়ে খেলার সূত্রে। সেই থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক। প্রচুর মানুষ তার বন্ধু। এমনকি তাদের পরিবারের সঙ্গেও তার নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। তবে ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে অন্যরকম একটা সম্পর্ক বাংলাদেশের, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার নাম সবসময় জড়িয়ে থাকবে। কারণ আমার প্রথম টেস্ট অধিনায়কত্ব বাংলাদেশের বিপক্ষে।  ২০০০ সালের সেই দিন আমার এখনো মনে আছে, তখন নতুন স্টেডিয়াম হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সেদিন বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছিল। আর আমি ড্রেসিংরুমে গিয়ে বলছিলাম, আমার অধিনায়কত্বের প্রথম টেস্টটা কি হেরে যাব! তবে শেষ পর্যন্ত আমরা ঘুরে দাঁড়াই এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ি। এরকমই আমার জীবনের বহু মূল্যবান মুহূর্তের সম্মুখীন বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষ।’

ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মরণ করেছেন স্বাধীনতা কাপের কথাও। বলেছেন, ‘আমার এখনো মনে আছে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১৫ রান তাড়া করে জিতেছি। তখনকার দিনে এত রান তাড়া করা ছিল অবিশ্বাস্য বিষয়। পর্যাপ্ত ফ্লাড লাইট ছিল না। ফুটবলের আলোয় ম্যাচটা খেলে আমরা জিতেছিলাম।’

এরকমই বহু স্মৃতিচারণে প্রসঙ্গ ফেরে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট ম্যাচটিতে। নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কাছে টসে হেরেছিলেন সৌরভ। বাংলাদেশ নেমেছিল প্রথম ব্যাট করতে। টসটা জিতলে কী করতেন সৌরভ, ‘তাদের (দুর্জয়দের) ব্যাটিংয়ে পাঠাতাম না। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এত ভালো উইকেট, চকচক করত। আমি আর শচীন তো প্রায়সময় একসঙ্গে ব্যাট করতে নামতাম, প্রচুর শাইন করছে দেখতাম।’

সৌরভ আহ্বান জানান, ‘খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাক, গান-বাজনার সঙ্গে যুক্ত থাক, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাক। এগুলো তোমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যতবার ঢাকা আসি, এই শহরের মধ্যে দিয়ে আসি ॥প্রচুর পরিবর্তন দেখতে পাই। এই উন্নয়ন কাদের জন্য? যুব সমাজের জন্য। তাই এই উন্নয়নের সঙ্গে তোমরা এগিয়ে যাও, উন্নয়নের অংশ হও।’