ফের ঘরহারা সালওয়া

গোলা আর বোমা বিস্ফোরণই যখন সিরিয়ার নিত্যদিনের চিত্র, তখন হাসিমুখে আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনাম শিশু সালওয়া। ২০২০ সালে তার পরিবার ইদলিব থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় পায় তুরস্কে। ৬ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাতে আবারও ঘরহারা হলো সালওয়া। লিখেছেন নাসরিন শওকত

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ

পশ্চিম এশিয়ার দেশ সিরিয়া। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী বাশারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। একের পর এক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে বাশার সরকার। শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ সিরিয়াকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে ফেলেছে, যা একসময়ের সমৃদ্ধ দেশটিতে ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে এক দশকে (২০১১-এর মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ) নারী, শিশুসহ ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আর দেশটির ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে উদ্বাস্তু। এ ছাড়া প্রায় ৬৮ লাখ বাসিন্দা প্রতিবেশী দেশ লেবানন, জর্ডান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। এই ঘরহারাদের মধ্যে একটি পরিবার হলো ইদলিবের আবদুল্লাহ-আল মোহাম্মদের পরিবার।

মৃত্যুঞ্জয়ী হাসি

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি। সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ ইদলিব। সরকারবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সবশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল তুরস্ক সীমান্তবর্তী এই প্রদেশটি। তুরস্ক-সমর্থিত এই বিদ্রোহীদের হাত থেকে প্রদেশটি পুনরুদ্ধারে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই চলে। সরকারি বাহিনী ইদলিবে আক্রমণ জোরদার করায় প্রতিনিয়ত চলে বোমাবর্ষণ। তখন ইদলিবের সারমাদা শহরে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত সালওয়া। তার বাবা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ মেয়ের সঙ্গে করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। যেখানে দেখা যায়, একের পর এক বোমাবর্ষণ হচ্ছে, তুমুল শব্দে প্রকম্পিত হচ্ছে এলাকা। অথচ তার মধ্যেই একটি তিন বছরের কণ্যা শিশু হাসছে, মোবাইলে গেম খেলছে। বাবা-মেয়ের হৃদয়স্পর্শী ওই ভিডিওটি তখন মানুষের মন ছুঁয়ে যায় এবং ভাইরাল হয়। নিত্য বোমার আতঙ্ক থেকে মেয়েকে বাঁচাতে মোহাম্মদ শিক্ষণীয় এক খেলা শিখিয়েছিলেন। তাকে বোমার শব্দে ভয় না পেয়ে হাসতে শেখান। ভিডিওটিতে সালওয়াকে উদ্দেশ করে মুহাম্মদকে বলতে শোনা যায়, যখন বোমার শব্দ শুনবে, তখন তুমি জোরে জোরে হাসবে। দেখবে তখন আর ভয় লাগছে না। সালওয়াকে বলতে দেখা যায়, ‘ওই দেখো একটি বোমা! বোমার শব্দ চিনতে পারা গর্বের সঙ্গে সে আবারও বলে ওঠে, ‘এখনই নেমে আসবে ওটি’ তাহলেই হাসতে পারব আমরা।’ একটা বোমা পড়তে থাকলে বাবা সালওয়ার কাছে জানতে চান এটা কি জেট বিমান, নাকি বোমা? সালওয়া উত্তর দেয়, বোমা। মোহাম্মদ আবার বলেন, যখন ওটা আসবে আমরা হাসব, কেমন? এবার বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে সোফায় বসা বাবার পাশে দাঁড়িয়ে খিল খিল করে হেসে ওঠে সালওয়া। আবার একটা বোমার শব্দ শুনে মোহাম্মদ মেয়ের কাছে জানতে চান, তোমার কি হাসি পায়? সালওয়া জানায়, হ্যাঁ, এটা মজার। তিনি ছোটবেলা থেকেই সালওয়াকে বিভিন্ন হামলার শব্দকে আনন্দের বিষয় হিসেবে বুঝিয়েছেন। যাতে সে কখনো আতঙ্কিত না হয়।

অসাধ্যসাধন

যুদ্ধকবলিত এলাকায় বসবাসের মানসিক ধকল থেকে শিশুদের রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই অসাধ্যকেই সাধন করে দেখিয়েছিলেন মোহাম্মদ । ২০২০-এর ফেব্রুয়ারিতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া বিস্তারিত এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ  বলেছিলেন, আমি বরাবর তাকে ভয় পাওয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে যখন গোলা ও বোমার হামলা শুরু হয়। এটিকে একটি খেলা হিসেবে দেখিয়েছিলাম। এই ধারণাটি পেয়েছিলাম এক ঈদের দিন। তখন শিশুরা বাড়ির বাইরে আতশবাজি নিয়ে খেলা করছিল। ওই শব্দে ভীষণ ভয় পায় সালওয়া। আমি তাকে ব্যালকনিতে নিয়ে গিয়ে ওই শিশুদের দেখিয়ে বোঝালাম, দেখো ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এটা স্বাভাবিক। ওই আতশবাজি দিয়ে ওরা খেলছে। এর কিছুদিন পর ইদলিবে যুদ্ধবিমান হামলা করে। ওই শব্দে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সালওয়া। তাই আমি তাকে বললাম, ‘এটা সেই ছেলেদের খেলার শব্দ। তাই তুমি ভয় পেয়ো না।’ মোহাম্মদ  সবচেয়ে বড় চিন্তা তার পরিবারকে ঘিরে। তিনি চান তার মেয়ে সালওয়া যেন আর দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিক একটি শৈশব পায়। তার একমাত্র আশা, তার সন্তান যেন ভয় বা আতঙ্কহীন জীবন কাটাতে পারে।

ঘরহারা এক পরিবার

তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর সারমাদা। ঠিক ওই সময়েই সালওয়ার পরিবারকে জোরপূর্বক শহরটির গ্রামের বাড়ি সারাকাব ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে বাবা-মেয়ের হাসির ওই ভিডিওটি মোহাম্মদ প্রথমে টুইটারে পোস্ট করেন। তখন সেটি কয়েক হাজার শেয়ার হয়। পরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন খবর প্রচার হয়। ভিডিওটি যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা তুরস্ক সরকারের মনোযোগ কাড়ে। এর এক সপ্তাহ পর (২৫ ফেব্রুয়ারি) তুর্কি সরকারের সহায়তায় সালওয়া ও তার পরিবার নিরাপদে তুরস্কে পৌঁছায়। প্রথমে তারা তুরস্কের রেইহানলি শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নেয়। পরে ঘটনাচক্রে চলে আসে দক্ষিণাঞ্চলের শহর আন্তাকিয়ায়। এরই মধ্যে বাবা ও মেয়ের মৃত্যুকে উপহাস করা হাসির এই খেলার তিন বছর পেরিয়ে গেছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি। আন্তাকিয়ার আবাসিক ব্লকগুলো ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাতে কেঁপে ওঠে। এতে ধুলোর সঙ্গে মিশে যায় এলাকাটির ৭০ ভাগেরও বেশির ভাগ ঘরবাড়ি। সেই সঙ্গে মোহাম্মদের পরিবারের নিরাপত্তার স্বপ্নও হয় ধূলিসাৎ। ঘরহারা এই পরিবারটির স্বপ্ন ছিল, এবার হয়তো পরম নিশ্চিতের এক জীবন পাবে তারা! গণমাধ্যম আলজাজিরাকে হতভাগ্য জীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মোহাম্মদ বলেছেন, ‘ভূমিকম্পটি এমন শক্তিশালী ছিল যে, আমি রুমের আরেক পাশে থাকা সালওয়ার যতই কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, ততই যেন আমাকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে কেউ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মনে হবে, আপনি যেন এই জীবন ও পরকালের মধ্যে আটকা পড়ে গেছেন... আপনি ভালো স্মৃতিগুলো মনে করছেন আর হাসছেন, আবার মন্দ বিষয়গুলো মনে করে, ঈশ^রের কাছে শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।’

আতঙ্কের সঙ্গে মানিয়ে চলা

একের পর এক সহিংসতায় সিরিয়ায় ঘরহারা হয় সালওয়ার পরিবার। এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিনিয়ে নিয়েছে তার তুরস্কের বাড়ি। তাই অবুঝ সালওয়ার মনে খেলা করে নানা প্রশ্ন। বাবা-মায়ের কাছে সে জানতে চায় কী হয়েছে? কী কারণে মানুষরা ধসে পড়া ইট-সুরকির নিচে রয়েছে? কীভাবে তারা ওর মধ্যে থাকছে? যেকোনো কিছুর মূল্যে সালওয়াকে আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে মরিয়া তার বাবা। কিন্তু তিনি নিশ্চিত জানেন, এবার হাসির সেই খেলা আর কাজে আসবে না কিছুতেই। মোহাম্মদ  বলেন, ‘ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে শিশুরাও বুঝতে পারে তার বাবাও অসহায়। যদিও অন্য সময় সালওয়ার বাবা তার কাছে হিরো, কিন্তু এ সময় সে দেখেছে যে সবাই কেমন অসহায় ।’

এক বছরেরও বেশি সময় আগে মোহাম্মদ ও তার পরিবার কানাডায় পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত সবুজসংকেত আসতে বেশ সময় লাগছে। এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে রয়েছে তার সব সম্পদ। তার পরও বাবা হিসেবে একটি স্থায়ী বাড়ি পাওয়ার আকাক্সক্ষা বুকে আগলে রেখেছেন তিনি, যেখানে তার মেয়ে সাধারণ জীবন পাবে আর প্রাণ খুলে হাসবে। মেয়েকে আতঙ্ক থেকে দূরে রাখতে না পারা আক্ষেপ কুরে কুরে খাচ্ছে তাকে। অসহায় মোহাম্মদ বলে চলেন, ‘এখন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার মাথা থেকে ভূমিকম্পের বিষয়টিকে বের করে দেওয়া। কিন্তু কীভাবে করব, এর উপায় আমার জানা নেই। বরাবর যেকোনো সমস্যারই উপায় বের করে ফেলি আমি। কিন্তু এবার কিছুই করতে পারছি না। এখন সালওয়ার বয়স সাড়ে ছয়। তার পরও তাকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আগামী বছর স্কুলে যেতে পারবে সে।’

মোহাম্মদ বলেন, ‘এমন সময় ঘরের মাঝখানে একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। কীভাবে বের হয়ে আসব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ঠিক তখন আমার প্রতিবেশীকে বাইরে উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমাদের দেখে তিনি সাহায্য করতে এগিয়ে এলে, তার কাছে সালওয়াকে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে আমার গলা দুহাত দিয়ে এমনভাবে পেঁচিয়ে রেখেছিল যে, বাধ্য হয়ে জোর করে তাকে ওই প্রতিবেশীর কাছে তুলে দিলাম।’

যখন তারা বাইরে রাস্তায় উঠে এলো, তখন ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে চলছে বৃষ্টি। শরীরে থাকা পায়জামাও ভিজে একাকার। এবার পাশেই আরেকটা শক্তিশালী ভূমিকম্প বিকট শব্দে আঘাত হানে। মোহাম্মদ বলেন, ‘মনে হলো যেন আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা ও পায়ের নিচের মাটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রকাণ্ড শব্দে আশপাশের ভবনগুলো একে একে ধসে পড়ছে। আমি জানি না কোথায় দৌড়ে পালাব। থেকে থেকে ভবনগুলোর

ধ্বংসস্তূপ থেকে আমরা শুধু আহতদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। আর সেই চিৎকার শুনে উদ্ধারকর্মীরা ছুটে চলেছেন তাদের উদ্ধার করতে।’ এর মধ্যে চারপাশ দিয়ে লোকদের পালাতে দেখে ভয়ে আর আতঙ্কে কাঁদতে শুরু করেছে সালওয়া। কয়েক ঘণ্টা পর বেশ কিছু দূরে একটি কার দেখতে পেয়ে আশা নিয়ে ছুটে যান সেদিকে। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা স্মরণ করে মোহাম্মদ  বলেন, ‘সে (সালওয়া) তখন ঠান্ডা আর আতঙ্কে একেবারে যেন বরফ হয়ে গিয়েছিল। থেকে থেকেই বমিও করছিল সে।’

যেন এক কেয়ামত

মোহাম্মদ কাছে দিনটি একেবারে কেয়ামতের মতোই ছিল। অন্যের দেওয়া একটা জ্যাকেট তার গায়ে ছিল। স্ত্রী, মেয়ে আর হাতের কাছে পাওয়া যৎসামান্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে রওনা হন মোহাম্মদ । তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের শহর মার্সিনে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু যখন তারা ওই বাড়ির কাছে পৌঁছালেন, তখন ওই আত্মীয় রাস্তার পাশে এক জায়গায় টহল দিচ্ছিলেন। প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েকশ পরাঘাত এক নাগাড়ে আঘাত করে চলছিল। তাই সেখানকার বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মোহাম্মদ  আবার বলেন, ‘চারপাশের পরিবেশ দেখে মনে হয়েছিল এটি কেয়ামতের দিন। সিরিয়ার ওই দিনগুলোতে যখন হামলা শুরু হতো, তখন কোথায় লুকাতে হবে তা অন্তত বুঝতে পারতাম আমরা। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমস্যার উৎস একেবারে আপনার পায়ের নিচে। তাই কোনো কিছু চিন্তা করাও মুশকিল।’ তিনি পরিবারের জন্য মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই খুঁজছিলেন, কিন্তু কোনো কিছুই খুঁজে পাননি। তাদের আশপাশে কোনো খাবারও ছিল না। এমনকি কোনো মানবিক সহায়তা সংস্থাও সেখানে ত্রাণ দিতে আসেনি তখনো।

অবশেষে স্ত্রীর এক আত্মীয়ের বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান মোহাম্মদ ও তার পরিবার, যেখানে অনেকের সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাদের। নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান বলে মনে হওয়া মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার স্ত্রীর চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে ঠাঁই পেয়েছি। তখনো ওই ভাই ধসে পড়া ভবনের ইট-সুরকির নিচে চাপা পড়েছিলেন। কথাগুলো যখন মুহাম্মদ বলছিলেন তখন ৯ দিন চলছিল। আমার এক বন্ধুর ৯ ও ১০ বছরের দুই ছেলেমেয়ে ছিল, যাদের এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।’