এক মাসে আদানি সম্পদ হারালো ১২ লাখ কোটি রুপি!

কথায় বলে যত দ্রুত উত্থান হয়,পতন তার চেয়ে দ্রুত হয়। এক সময়ে রিলায়েন্সের মতো নামী সংস্থাকেও শেয়ার বাজারে টপকে গিয়েছিল আদানি গ্রুপ। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে তিন ভাগের মধ্যে দুই ভাগ সম্পত্তিই খোয়া গেছে। শীর্ষ ধনীর ২৫ নম্বরেও নেই আদানি গ্রুপ।

আদানি গ্রুপের ‘জালিয়াতি ও কারচুপি’–সংক্রান্ত হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনের এক মাস পূর্ণ হলো। সেই সঙ্গে দেখা গেলো বিশ্বের তৃতীয় ধনীর সাম্রাজ্যধসের। গত ২৪ জানুয়ারি হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আদানি গ্রুপের শেয়ারের টানা দরপতনের ফলে বাজার মূলধনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৬৩২ কোটি রুপিতে। অথচ এক মাস আগেও ১০টি কোম্পানির মোট বাজার মূলধন ছিল ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৮ কোটি রুপি। অর্থাৎ, এক মাসে আদানি গ্রুপ হারিয়েছে প্রায় ১২ লাখ কোটি রুপি!

বর্তমানে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বিশ্ব ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থান থেকে ২৯তম স্থানে নেমে এসেছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে ৮০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৪১.৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। আদানি গ্রুপের শেয়ার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

এদিকে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না আদানি গ্রুপের শেয়ারের পতন। শুক্রবারও পতন অব্যাহত আদানি গ্রুপের প্রায় সবকটি কোম্পানিতে। বিশেষ করে বেশি কমেছে আদানি এন্টারপ্রাইজের, দর কমেছে ৪.৮৫ শতাংশ। এছাড়া ৫ শতাংশ করে শেয়ারের পতন হয়েছে আদানি গ্রিন, আদানি টোটাল গ্যাস ও আদানি ট্র্যান্সমিশনের।

গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে আদানি ঘোষণা করেছিলেন, গ্রাহকদের সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বাজারের আস্থা অর্জনে গত এক মাসে কোন ত্রুটি না থাকলেও তার সাম্রাজ্যে দরপতন চলছেই। যদিও, আদানি গ্রুপের দাবি, হিনডেনবার্গ রিসার্চের ওই রিপোর্ট ভিত্তিহীন।