ক্ষতির মুখে শ্রীপুরের দুই শতাধিক চাষি

পেঁয়াজের নিম্নমানের বীজে কৃষকের মাথায় হাত

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৭ গ্রামের দুই শতাধিক কৃষক নিম্নমানের পেঁয়াজের চারা রোপণ করে বিপাকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তারা পেঁয়াজের বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। কিন্তু জমিতে রোপণ করে সেচ দেওয়ার পর পেঁয়াজের চারা বিবর্ণ হয়ে মারা যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় তাদের ভারত থেকে আনা নকল ও নিম্নমানের বীজ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় শ্রীপুর উপজেলায়। চলতি মৌসুমে শ্রীপুরের ৭টি গ্রামÑ চরজোকা, হোগলডাঙ্গা, আমলসার, চরমালাইনগর, মদনপুর, বড় উদাস ও গোয়ালপাড়ায় নিম্নমানের নকল বীজের চারা রোপণ করে পেঁয়াজ আবাদে ধস নেমেছে।

শ্রীপুরের ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেতে পেঁয়াজের চারা গজায়নি। কিছু অংশে পেঁয়াজের চারা থাকলেও সেখানে চারাগুলো হলুদ হয়ে গেছে। 

গোয়ালপাড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি অলিয়ার বিশ্বাস বলেন, গত বছর আমার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারও ৫৫ শতক জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করি। এবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার ভারতীয় বীজ কিনি। মাঘ মাসে বীজ পাতো দিয়ে পৌষের মাঝামাঝি ক্ষেতে চারা রোপণ করি। কিন্তু সেচ দেওয়ার পরপরই পেঁয়াজের চারাগুলো মরে যায়।

চরজোকা গ্রামের আতিয়ারসহ ভুক্তভোগী একাধিক চাষি জানান, তাদের গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী আলাউদিনের কাছ থেকে এবার পেঁয়াজের বীজ সংগ্রহ করে বীজ পাতো দেওয়ার পর চারা হয়। সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে সেচ দেওয়ার পরপরই হলুদ রঙ ধারণ করে মারা যায়।

এ বিষয়ে বীজ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে বীজের ব্যবসা করে আসছি। এ বছর জেলার মহম্মদপুরের শ্যামনগর গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী আনোয়ার মৃধার কাছ থেকে ৫২ কেজি পেঁয়াজের বীজ কিনি। কৃষকরা বীজ নিয়ে জমিতে রোপণের পর চারা মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর চাপের মুখে আছি। এরই মধ্যে একজন কৃষক আমার নামে আদালতে মামলা করেছেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা বলেন, কয়েকটি গ্রামে পেঁয়াজের চারা রোপণের পরপরই মারা যাওয়ার কথা জানতে পেরেছি। এটা বীজের সমস্যা নাকি অন্য সমস্যা তা তদন্ত করছে কৃষি বিভাগ।