৬ দফা দাবিতে দর্শনায় রেলপথ অবরোধ

খুলনা-ঢাকা পথে চলাচলকারী সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের রাত্রিকালীন যাত্রা বিরতিসহ ছয় দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় রেলপথ অবরোধ করেছেন দর্শনার স্থানীয় কিছু লোক। ‘দর্শনার জন্য আমরা’ ব্যানারে আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা হল্ট স্টেশনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় অবরোধের কারণে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে রেললাইন থেকে সরে দাঁড়ান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ‘দর্শনা হল্ট স্টেশনে সুন্দরবন ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতি দর্শনাবাসীর প্রাণের দাবি। অথচ রহস্যজনক কারণে দর্শনায় এ দুটি ট্রেনের স্টপেজ নেই। এতে মধ্যরাতে দুর্ভোগে পড়তে হয় দর্শনাসহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষের’।

এ ছাড়া ভারত বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে দর্শনা থেকে যাত্রী ওঠানামা ও আসন বরাদ্দ, দর্শনার আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন থেকে রাজশাহী ও ফরিদপুরের ভাঙা রেলস্টেশন পর্যন্ত দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু; দর্শনা পুরাতন বাজার ও চুয়াডাঙ্গা-কালিগঞ্জ মহাসড়কে অবস্থিত দুটি রেলগেটে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস নির্মাণ; দর্শনা মাদারপাড়ায় রেলওয়ের নিজস্ব জায়গায় আধুনিক রেলওয়ে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেলপথ দুই লাইনে উন্নীতকরণ; দর্শনায় ট্রেনের যাত্রী সেবা বৃদ্ধিতে বেনাপোল এক্সপ্রেসে নতুন করে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ সংযোজনসহ সাধারণ আসন বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।

এসব দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে দর্শনা হল্ট স্টেশন এলাকায় পৌঁছান দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা মিতা। এ সময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে প্রশাসন রয়েছে। এই দাবি পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে আন্দোলন থেকে সড়ে দাঁড়ান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দর্শনার জন্য আমরা সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাকারিয়া আলমসহ অন্যরা।

দর্শনার জন্য আমরা নামের একটি সংগঠনের ঘোষিত এ কর্মসূচীতে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক ও স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।