ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ৯ দিন পর গ্রেপ্তার ৩

সাভারের হেমায়েতপুর পিকআপ স্ট্যান্ড এলাকায় পরিবহন ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ দিন পর, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সালসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস্ এ্যান্ড ট্রাফিক, উত্তর) মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে সাভার থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার হয়েছেন: প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সাল (২৮), তার বাবা মো. কিয়ামুদ্দিন (৬০) এবং তাদের সহযোগী মো. রিপন (২৫)। তারা সবাই সাভারের হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে একই মামলায় প্রধান আসামি ফয়সালের শ্বশুর আবদুল মান্নানকে (৫০) হেমায়েতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনও ওই মামলার আসামি শহিদুল্লাহ (৩৫) এবং জাহাঙ্গীরকে (৩০) গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল সম্পর্কে নিহত শাহাবুদ্দিনের সৎ ভাগিনা। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও মামলা মোকাদ্দমা চলে আসছিল।

এরই ধারাহাবিকতায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার প্রধান আসামি রাকিবুল ইসলাম ফয়সালসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা নিহত শাহাবুদ্দিনকে হত্যার উদ্যেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর পিকআপ স্ট্যান্ড এলাকায় ওৎ পেতে থাকে। পরে শাহাবুদ্দিন সেখানে গেলে অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায় তারা।

এ সময় শাহাবুদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আরও দুইজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাহাবুদ্দিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হেরে যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. পিয়ার মন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই আসামিরা সাভার ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এসময় তারা ঢাকা, গাজীপুর, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারে পালিয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে তারা দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সাহা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগরী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।

এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আগে এই মামলার আসামি আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। এসব আসামিদের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।