যেভাবে কাজ করে

বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কম্পিউটার অ্যাপ চ্যাটজিপিটি। বলা হচ্ছে ইন্টারনেট আবিষ্কারের মতোই যুগান্তকারী ঘটনা এই চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবন। ওপেন এআই নামের একটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গত বছরের নভেম্বরে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে। অল্প সময়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে পড়ে চ্যাটজিপিটি। এটিকে বলা হচ্ছে একটি ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, যা কথোপকথনের মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করতে পারে। ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথাবার্তা, প্রশ্ন বা আলাপের ভিত্তিতে উত্তর সরবরাহ করতে পারে। যেমন যেকোনো সাধারণ জিনিসপত্রের উত্তর সরবরাহ করতে পারে একটি দেশের রাজধানী কী, বা দেশটির ইতিহাস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন। গুগল সার্চে যেমন কিছু কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করা যায়, চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্নের আকারে সেটা করা যায়। সে ক্ষেত্রে গুগল হয়তো সে সম্পর্কিত অনেক তথ্যের লিংক আপনাকে এনে দেয়, যা থেকে আপনার উত্তর খুঁজে নিতে হয়। আর চ্যাটজিপিটি তার ভাণ্ডারে থাকা তথ্য থেকে উত্তরের আকারে আপনার প্রশ্নের জবাব দিয়ে দেয়। ফলে আপনাকে আলাদা করে আর খুঁজে নিতে হয় না। প্রশ্ন যত সুনির্দিষ্ট হবে, উত্তরও সেভাবেই আসবে। একজন ডায়াবেটিকস রোগীর দৈনিক খাদ্যতালিকা কেমন হবে, সে প্রশ্ন থেকে শুরু করে একটি নির্দিষ্ট গবেষণার মেথডলজি কেমন হতে পারে, সব প্রশ্নেরই উত্তর মুহূর্তে দিতে পারে চ্যাটজিপিটি। এমনকি কোন বিষয়ের ওপর গল্প কবিতা লিখতে বললে, সেটাও করে দেয়। এ ছাড়া চ্যাটজিপিটি প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধান করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

ওপেন এআই দ্বারা প্রস্তুত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার জন্য আপনার কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে না। আপনি ওপেন এআইর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে পারেন। একটি সাধারণ ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি এক্সেস করা যায়। এভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার জন্য নিম্নলিখিত ধাপসমূহ অনুসরণ করতে হবে :

* প্রথমেই ওপেন এআইর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://openai.com/ যেতে হবে।

* ওপেন এআইর ওয়েবসাইটে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে হলে, আপনাকে ‘GPT-3 Demo’-এ ক্লিক করতে হবে।

* নতুন ট্যাবে চ্যাটজিপিটি সংযোগ করার জন্য ‘Launch Demo’ বাটনটি ক্লিক করতে হবে। এরপরই চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা যাবে।

* মোবাইলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতে হলে নম্বর দিয়ে ভেরিফাই করতে হয়।

এ ছাড়া রয়েছে চ্যাটজিপিটির পেইড ভার্সন, যেটি অ্যাডিটিভ ফিচার এবং সুবিধাসমূহ সরবরাহ করে। চ্যাটজিপিটি প্লাসের জন্য পেমেন্ট করতে হয় এবং এর দাম বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত মাসিক সাবস্ক্রিপশন বা বছরভরে সাবস্ক্রিপশন সরবরাহ করা হয়। বিস্তারিত দামের জন্য চ্যাটজিপিটির ওয়েবসাইট বা অ্যাপে দেখতে পারেন।

চ্যাটজিপিটি প্লাসে বাড়তি সুবিধাগুলো নিম্নরূপ :

১. আনলিমিটেড স্টোরেজ : চ্যাটজিপিটি প্লাস একটি ক্লাউড স্টোরেজ সেবা সরবরাহ করে, যা আপনাকে আপনার মেসেজ, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য ফাইল সংরক্ষণ করার জন্য আনলিমিটেড স্থান দেয়। সুতরাং আপনার ফোনের স্টোরেজ খালি রাখার প্রয়োজন হবে না।

২. কাস্টম থিম : চ্যাটজিপিটি প্লাস ব্যবহার করে আপনি আপনার চ্যাটজিপি থিমটি কাস্টমাইজ করতে পারবেন। আপনি নিজের পছন্দমতো কালার, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য এলিমেন্টস নির্বাচন করতে পারবেন।

৩. সেলফ ডেস্ট্রাক্ট মেসেজ : চ্যাটজিপিটি প্লাস ব্যবহার করে আপনি সেলফ ডেস্ট্রাক্ট মেসেজ সেট করতে পারবেন। এই মেসেজগুলো আপনার সেট করা টাইম পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে।

তবে মনে রাখতে হবে, চ্যাটজিপিটি যেহেতু তার তথ্যভাণ্ডার থেকেই সব প্রশ্নের জবাব দেয়, সেই তথ্যে কোনো ভুল থাকলে বা আপডেট না করা হলে আপনার প্রশ্নের উত্তরও সে ভুল দিতে পারে। যেমন ২০২১ এর পরের তথ্য চ্যাটজিপিটিতে আপডেট করা নেই। ওপেন এআইয়ে বিষয়ে ডিসক্লেইমারও দিয়ে রেখেছে। ফলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের আগে তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তনও করে নিতে পারেন। এভাবে মানুষের বিকল্প নয় বরং মানুষের সাহায্যকারী হয়ে উঠতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চ্যাটজিপিটি। নতুন এ প্রযুক্তি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে নিজেকে আরও উন্নত করে তুলছে, প্রতিনিয়তই শিখছে। মানুষ কীভাবে ব্যবহার করবে তা দিয়েই নির্ধারিত হবে এর ভবিষ্যৎ।

*(প্রতিবেদনটি লিখতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নেওয়া হয়েছে)