দ. আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ জনের দাফন সম্পন্ন

দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ দেশে আনার পর শুক্রবার (৩ মার্চ) ফেনীর নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন করেছেন তাদের স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেলে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছায়।

ফেনী সদর উপজেলার বিরলী গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চারজনের লাশ দেশে এসেছে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার দিকে লাশগুলো নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে পৌঁছায়।

দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মমারিজপুর গ্রামের রাজু আহমেদের জানাজা করিমুল্লাহ হাইস্কুল মাঠে সকাল ৯টায় এবং একই উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মো. মোস্তফা কামালের জানাজা নেয়াজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের দাফন করা হয়।

ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়ার ইসমাইল হোসেনের মরদেহ বাড়ির পাশে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর গ্রামের আবুল হোসেনের দাফন গ্রামে সম্পন্ন হলেও তার ছেলে নাদিম জন্মগতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হওয়ায় তার মরদেহ সেখানে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রাম নিহত মোস্তফা কামালের লাশ দাফনের জন্য খাটিয়ায় তোলা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

সোনাগাজীর চর মজিলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ হোসেন জানান, রাতে আবুল হোসেনের লাশ নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে আবুল হোসেনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত মোস্তফা কামালের বাড়ি দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ জানান, নিহত মোস্তফা কামালের লাশ সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে, ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় ভোররাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের লোকানকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বছরের এক শিশুসহ ৬ বাংলাদেশি নিহত হন। ওই বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কার ওয়েস্টার্ন কেপ থেকে কেপটাউন বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচজনের। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনিসুল হক মিলন নামের আরও একজন। তার লাশ দেশে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। তার বাড়িও ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায়।