উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান না ডাক্তার সেবাবঞ্চিত গ্রামের মানুষ

নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তাররা তাদের কর্মস্থলে যান না। এলাকার মানুষ তাদের চেনেনও না। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাট ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ভাওড়া ইউনিয়নের আমড়াইল গ্রামের গলচাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে হাট ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখা গেছে, ১০-১২ রোগী উপস্থিত হয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য। ফার্মাসিস্ট আবদুল কাদের মিয়া তাদের রোগের কথা শুনে ওষুধ দিচ্ছেন। একটু পরে সেখানে উপস্থিত হন ওই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) জাহাঙ্গীর আলম। মেডিকেল অফিসার সম্পর্কে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, ‘হয়তো জরুরি কাজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকতে পারেন।’

জানা যায়, হাট ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০-৪৫ রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। এই কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার হলেন রুবায়াত আনোয়ার। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই কেন্দ্রে যোগদান করেন।

চিকিৎসা নিতে আসা বৈলানপুর গ্রামের আবুল কাশেম, থলপাড়ার কালাম মিয়া, সুতানরি গ্রামের কালিপদ, বৈণ্যাতলী গ্রামের খুশিমহন সরকার জানান, তারা এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারকে কোনোদিন দেখেননি। তবে একজন ডাক্তার আছে এটা তারা শুনেছেন। তবে পারদীঘি গ্রামের উজ্জল মিয়া জানান, তিনি ডাক্তারকে দু-একদিন দেখেছেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী আবদুর রউফ বলেন, ‘দেড়মাস আগে আমি ডাক্তারকে সপ্তাহের অন্তত হাটবার (মঙ্গলবার) আসার অনুরোধ করি। কিন্তু তারপর আর ওই ডাক্তারকে দেখিনি।’

এ বিষয়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার রুবায়াত আনোয়ার বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ডিউটি থাকলে সেদিন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারি না। অন্যদিনগুলোতে যাওয়া হয়।’ এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়দের অভিযোগের কথা বললে তিনি নীরব থাকেন।

অপরদিকে ভাওড়া ইউনিয়নের গলচাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. সাবিহাকেও এলাকার মানুষ চেনেন না। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর মাত্র দুদিন তিনি কেন্দ্রে গিয়েছেন বলে জানান ওই কেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) আইনুল হক।

আমড়াইল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামেই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু ডাক্তারকে আমরা কেউ দেখিনি। ডাক্তার না আসায় আমরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’

এ বিষয়ে ডা. সাবিহা বলেন, ‘আমি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত ডিউটি করি। নিয়োগপত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আমাকে ডিউটি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমি গলচাড়াতে দুই দিন তদারকিতে গিয়েছিলাম।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাট ফতেপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত ডাক্তার যাওয়ার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গলচাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার তার নিয়োগপত্র অনুযায়ী ডিউটি করছেন। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়ম।’