নারী দিবস, তবে ভিন্ন দিনে

প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখ বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকার জানাতেই দিবসটি উদযাপিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কে জাতীয় নারী দিবসের আয়োজন করে। এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন শ্রমকর্মী থেরেসা মালকিয়েল। শহরের গার্মেন্টস শ্রমিকদের এক প্রতিবাদস্বরূপ শুরু হয়েছিল এই দিনটির যাত্রা। ১৯১০ সালে আমেরিকান সমাজতন্ত্রীদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জার্মান প্রতিনিধিরা নারী দিবস পালন করেন। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে নারী দিবস উদযাপন শুরু করে এবং ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই দিনটি উদযাপন হচ্ছে। প্রতি বছর একটি করে নতুন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, আলাদাভাবে জাতীয় নারী দিবস পালন করে। ভিন্ন দিনে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বিশ্বজুড়ে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হলেও এ বছর ইরানের নারী দিবস ছিল ১৩ জানুয়ারি। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে মুসলমানদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মেয়ে ফাতেমার জন্ম দিবসকে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পালন করে ইরান। ফাতেমার জন্ম দিবস চান্দ্র বর্ষের আরবি মাস ও পারস্যের বর্ষপুঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণত প্রতি বছর ভিন্ন তারিখে পালিত হয়।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বলছে, ইরানে নারীর জন্য একটি আলাদা দিবস রাখা হলেও এটি আসলে ইরানি মৌলবাদীদের চিন্তারই প্রতিফলন। আসলে তারা নারীকে সামাজিক পরিসরের কিছু নির্দিষ্ট পরিচয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। অন্যদিকে নারীর স্বাধীনতা, অধিকার নিয়ে পশ্চিমা চিন্তা ও পুঁজিবাদের দিকে আঙুল তুলেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস। সংবাদমাধ্যমটিতে ৭ মার্চ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিশ্বে নারীদের অবস্থান, পশ্চিমাদের ধ্যানধারণা চাপিয়ে দেওয়া নারীবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড উইমেনস রিপোর্ট’-এ এটা স্পষ্ট যে, ২০২২ সালেও লিঙ্গবৈষম্য দূর করার লক্ষ্য পূরণ করা যায়নি। নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়, দেহ-সৌন্দর্যের তথাকথিত পশ্চিমা মাপকাঠিতে নারীকে পণ্যে পরিণত করা চলছে।