দিনে খাবারে চেতনানাশক রাতে বাড়িতে লুটপাট

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের তিনটি গ্রামে দিনে কৌশলে বাড়িতে খাদ্যদ্রব্যে চেতনানাশক মিশিয়ে রাতের বেলায় করা হচ্ছে লুটপাট। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় ওই তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। গত সোমবার দুপুরে এসব ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, কালিয়াকৈর উপজেলার পাইকপাড়া, সাতক্ষুড়া ও সাদুল্লাহপুর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে ফালু পালোয়ান উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমসহ তার পরিবারের সদস্যরা খিচুড়ি খান। এরপর ওই প্রধান শিক্ষক সপরিবারে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন। ওই দিন রাতে তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন গত সোমবার সকালে অচেতন দেখে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান আশপাশের লোকজন। এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে বাড়ির আশপাশে খুঁজে ঘুমের ওষুধের প্যাকেট পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, ‘কে বা কারা খিচুড়িতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল, তা জানি না। কিন্তু ওই খিচুড়ি খেয়ে ধীরে ধীরে আমরা অচেতন হয়ে পড়ি। আর এই সুযোগে রাতের বেলায় বাড়িতে লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। বাড়ির পাশ থেকে ঘুমের ওষুধের প্যাকেট পাওয়া গেছে।’

শুধু প্রধান শিক্ষকের বাড়িতেই নয়, একই কায়দায় ওই দিন রাতে পাশের সাতক্ষুড়া গ্রামে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আব্দুস সালামের বাড়িতে লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। পরে আশপাশের লোকজন অচেতন অবস্থায় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পাঠায়। তাদের মধ্যে সালাম ও তার স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার রাতে একই কায়দায় পাশের সাদুল্লাহপুর গ্রামের আরিফুজ্জামানের বাড়িতে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। সেখানেও সবাই অচেতন হয়ে পড়লে রাতে স্বর্ণালংকার, টাকাপয়সা, মোবাইল সেটসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে তারা।

এসব ঘটনার পর ওই তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অতিদ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাসহ গ্রামবাসী।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আমজাদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিতেই তারা ওই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।