দেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। ২০২১ সালের সেরা শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানটি হবে আজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে। প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। কয়েক দিন ধরে সেই প্রস্তুতি চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকারা প্রস্তুতির বিভিন্ন ছবি শেয়ার করছেন।
জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রায় এক ঘণ্টা দৈর্ঘ্যরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু এবং সভাপতিত্ব করবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
এবার অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করবেন চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস আহমেদ ও নুসরাত ফারিয়া। এতে থাকছে বঙ্গবন্ধু ও দেশবন্দনা নিয়ে ওয়ার্দা রিহাব ও তার দলের পরিবেশনা। আরও অংশ নেবেন অপু বিশ্বাস, নিপুণ, তারিন, বাপ্পি চৌধুরী, জায়েদ খান, ইমন, নীরব, দীঘি, আঁচল, পূজা চেরি, ঐশী, তমা মির্জাসহ ২৬ শিল্পী। ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’, ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘হইহই রঙ্গিলা’, ‘পিচঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘কী জাদু করিলা’সহ একাধিক গানের সঙ্গে পারফর্ম করবেন তারা। এ ছাড়া মঞ্চে গান শোনাবেন পার্থ বড়ুয়া, আঁখি আলমগীর, ইমরান, কোনাল, লিজা, সাব্বির, নন্দিতা ও নিশিতা বড়ুয়া। ২০২১ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার দেওয়া হবে শিল্পীদের। এবার যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও ডলি জহুর। এ ছাড়া এবার যুগ্মভাবে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও ‘নোনা জলের কাব্য’। সেরা নির্মাতা হচ্ছেন ‘নোনা জলের কাব্য’ নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। যুগ্মভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন মীর সাব্বির (রাতজাগা ফুল) ও সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা), যুগ্মভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনোভা তামান্না (নোনা জলের কাব্য)। পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা এম ফজলুর রহমান বাবু (নোনা জলের কাব্য), পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রী শম্পা রেজা (পদ্মপুরাণ), খল চরিত্রে সেরা অভিনেতা মো. আবদুল মান্নান জয়রাজ (লাল মোরগের ঝুঁটি)। সেরা সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম (যৈবতী কন্যার মন), সেরা গায়ক কে এম আবদুল্লাহ-আল-মুর্তজা মুহিন (শোনাতে এসেছি আজ, পদ্মাপুরাণ), সেরা গায়িকা চন্দনা মজুমদার (দেখলে ছবি পাগল হবি, পদ্মাপুরাণ), সেরা গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার (অন্তরে অন্তর জ্বালা, যৈবতী কন্যার মন), সেরা সুরকার সুজেয় শ্যাম (অন্তরে অন্তর জ্বালা, যৈবতী কন্যার মন), সেরা কাহিনিকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনা জলের কাব্য), সেরা চিত্রনাট্যকার নূরুল আলম আতিক (লাল মোরগের ঝুঁটি), সেরা সংলাপ রচয়িতা তৌকীর আহমেদ (স্ফুলিঙ্গ)।