গুলিস্তানে বিস্ফোরণ

নমুনা পরীক্ষা করছে র‌্যাব

রাজধানীর গুলিস্তানের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক বা নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এটি গ্যাস থেকে হয়েছে কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি পুলিশ ও অন্য তদন্তকারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত ওই ভবন থেকে নুমনা সংগ্রহ করেছে র‌্যাব। বিস্ফোরণের কারণ জানতে এই নমুনার ফলোফলের অপেক্ষা করছে তারা।

বৃহস্পতিবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ভবনের বেজমেন্টে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও ফরেনসিক টিম কাজ করছে। সেখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো আমাদের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সংগ্রহ করা নমুনাগুলো পরীক্ষা করলে বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয় করা যাবে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারের নর্থ সাউথ রোডের ক্যাফে কুইন মার্কেট নামে একটি সাততলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ভবনটির বেজমেন্ট, প্রথম ও দোতলা বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাশের আরও দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন শতাধিক ব্যক্তি, তাদের অনেকে আশঙ্কাকাজনক অবস্থায় ঢামেক ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, বিস্ফোরণের পর থেকে বিভিন্ন সংস্থা সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাব তার সক্ষমতা অনুযায়ী উদ্ধার কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাবের বোম স্কয়াড, বোম ডিস্পোজাল স্কয়াড ও ফরেন্সিক টিম কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে র‌্যাবের দুই ধরনের ডগ স্কয়াড কাজ করছে। একটি হলো বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য চিহ্নিত করতে পারে এমন ডগ ও আরেকটি রেস্কিউ বা উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করতে পারে এমন ডগ কাজ করছে।

এদিকে বিস্ফোরণের কারণ জানতে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সম্ভ্যাব্য ৮টি বিষয় বর্ণনা করেছে তারা।

এখন পর্যন্ত সেখানে বিস্ফোরক বা নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ডিএমপি বলছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ডিএমপির সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল টিম আলাদা তদন্ত করছে। বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা একটা যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে রিপোর্ট দেবেন।

এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে আইসিইউতে থাকা রাজন ছাড়া বাকিদের সবার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের এখানে মোট ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। একজন আইসিইউতে। আর বাকিরা সবাই বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ৫ জনকে চিকিৎসকরা দেখে ছাড়পত্র দিয়েছেন। তবে তারা পরবর্তী চিকিৎসা নিতে আসবেন।

তিনি বলেন, আইসিইউতে থাকা রাজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। আমরা তদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি। বোর্ডে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা রয়েছেন। আমাদের এখানে ১৯ জনের লাশ পেয়েছি।

এ দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন নয়জন। ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এখানে ৮ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে।

তিনি বলেন, ২০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড মিলে সব রোগী দেখেছি এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাদের চিকিৎসায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে তাদের শরীরে ড্রেসিং করা হয়েছে। আরও কিছু পরিক্ষা নিরিক্ষাও করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবারই শ্বাসনালী দগ্ধ হয়েছে। বাসায় না যাওয়া পর্যন্ত কেউ শঙ্কামুক্ত নন। ভর্তি থাকা ডেন্টালের চিকিৎসক আলআমিন কিছুটা ভালো রয়েছেন ।