দুই মার্কিনির লাশ ফেরত দিয়ে ক্ষমা চাইল মেক্সিকো কার্টেল

মেক্সিকোর সীমান্ত শহর মাতামোরাস থেকে চার মার্কিন নাগরিককে অপহরণের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে দেশটির সন্দেহভাজন একটি মাদক চক্র। ঘটনাটি তদন্তের সাথে জড়িত একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ঘটনায় প্রথমদিকে গালফ কার্টেল জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। তবে মেক্সিকোর সংবাদপত্রে একটি ভিন্ন গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। সম্প্রতি তারা একটি চিঠির ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে গোষ্ঠীটি ভুক্তভোগীদের পরিবার ও মাতামোরাস শহরের বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং অপহরণের সাথে জড়িত পাঁচ জনকে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় একজন মেক্সিকান নারীও নিহত হন। গত ৩ মার্চ মেক্সিকোর তামাউলিপাস অঙ্গরাজ্যে অপহরণের এ ঘটনা ঘটে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) জানায়, সীমান্ত অতিক্রম করে মেক্সিকোতে ঢোকার পরই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা মার্কিন নাগরিকদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালায়। পরে চারজনকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অপরাধীরা। তাদের শনাক্ত করে অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করে মার্কিন প্রশাসন।

স্বজনরা জানিয়েছিলেন, কসমেটিক সার্জারি করাতে ওই চার মার্কিন নাগরিক মেক্সিকো গিয়েছিলেন। পাঁচ দিন চিরুনি তল্লাশির পর অবশেষে তাদের খোঁজ মেলে। যদিও তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন নিহত।

মেক্সিকোর কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার (০৯ মার্চ) বিকেলে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে সাঈদ উডার্ড ও জিন্ডেল ব্রাউন নামে দুই চিহ্নিত ব্যক্তির মরদেহ হস্তান্তর করেন। অপহৃত বাকি দুজন হলেন লাটাভিয়া ম্যাকগি ও এরিক জেমস উইলিয়ামস। তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয় কিন্তু একজন পায়ে গুলি লেগেছে।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এর আগে চার মার্কিন নাগরিককে উদ্ধারে মাতামোরাস শহরে পুলিশের পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করে মেক্সিকোর সরকার। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানোর পর অবশেষে খোঁজ পাওয়া যায় অপহৃতদের।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস সীমান্তের ওপারে তামাউলিপাস অঙ্গরাজ্য। এখানে মাদক পাচার এবং অন্যান্য সংঘঠিত অপরাধের জের ধরে প্রায়ই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, অপরাধীরা গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা যাত্রীদের টার্গেট করে। প্রায়ই তারা যাত্রীদের তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, তদন্তকারীরা ধারণা করছে, মেক্সিকোর একটি মাদক চক্রের সদস্যরা খুব সম্ভবত হাইতির মাদক পাচারকারী মনে করে ভুলে ওই মার্কিন নাগরিকদের তুলে নিয়ে যায়।