আনোয়ারায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ

কারখানার বিষাক্ত পানি পানে ১২ গবাদি পশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিসিআইসি পরিচালিত সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে দূষিত পানি পান করে আবারও ১২টি গরু-মহিষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সার কারখানার পশ্চিমে রাঙ্গাদিয়া চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙ্গাদিয়া চরের খালের বিষাক্ত পানি পান করে বারশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল ও দুধকুমড়া গ্রামের ৯ কৃষকের ১২টি গরু-মহিষ মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন আবুল কাশেম, এরফান, ইব্রাহিম, জহুর লাল সিংহ, ছৈয়দ জামাল, একরাম, জাকের হোসেন, কামাল হোসেন ও পারভেজ।

তাদের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে সার কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিষাক্ত বর্জ্য খালে ছেড়ে দেয়। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লাখ টাকার বেশি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানি খালে ছেড়ে দেওয়ায় তা পান করে এলাকার ১২টি গরু-মহিষ মারা যায়। ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে বিষয়টি দুই সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মৃত গবাদি পশুগুলো ডিএপি সার কারখানার ফটকে নিয়ে প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। পরে উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তারা এসে ময়নাতদন্তের জন্য স্যাম্পল নিয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানির কারণে কয়েক দফায় এলাকার ৩০-৩৫টি গবাদি পশু ও ১০টি মৎস্যঘেরের মাছ মারা যায়। এ বিষয়ে বারবার বলার পরও সার কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আনোয়ারা উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. শ্যামল চন্দ্র দাশ বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এসব গরু-মহিষের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সিইউএফএল ও ডিএপিএফসিএল নামে সার কারখানা দুটির বর্জ্যে শুধু এলাকার গবাদি পশুই মারা যাচ্ছে না, আশপাশের জলাশয়ের মাছ ও জলজপ্রাণীও ধ্বংস হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্রতায় আশপাশের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। তেমনি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মারা যাচ্ছে এলাকার গাছপালা- তৃণলতাও।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, এর আগে গত বছরের ঘটনার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবহিত করার পর পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে দূষণের সত্যতা প্রমাণিত হয়।

এ ব্যাপারে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ। বর্জ্য পানি কেন ছাড়ব?

জানতে চাইলে ডিএপিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, ময়নাতদন্তে যদি সত্যতা মেলে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেবে।

উল্লেখ্য, সার কারখানার খালের পানি পান করে ২০২১ সালের ৬ মে ৮টি মহিষ, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ৪টি গরু ও ২৪ এপ্রিল ১৩টি মহিষ মারা যায়। এ ছাড়া, গত বছরের ১৩ জুলাই কারখানার বর্জ্যরে বিষক্রিয়ায় মারা গেছে ১০টি ঘেরের সব মাছ।