গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ড করমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার নাম নাজমা খাতুন (৩৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর জালালপুর গ্রামের মাহমুদ আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম ওমর ফারুক (৩৬)। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার তেলিনা গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। স্বামী-স্ত্রী দুজন পূবাইলের তালটিয়া এলাকার ম্যাক্স কম্পোজিট কারখানায় চাকরি করতেন এবং করমতলার সুমনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ রবিবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘরের তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী ওমর ফারুক পলাতক।
নাজমার বাবা মাহমুদ আলী বলেন, ‘নাজমার প্রথম স্বামী ৯ বছরের একটি কন্যা রেখে মারা গেলে দুই বছর আগে সে পূবাইলে চলে আসে। সেখানে একই কারখানায় চাকরির সুবাদে ওমর ফারুকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হলে তাদের বিবাহ হয়। মেয়ের ফিক্সড ডিপোজিটের ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার জন্য ফারুক প্রায়ই নির্যাতন করত। সুখের কথা ভেবে ৩ লাখ টাকা জামাই ফারুককে দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে নাকি গ্রামের বাড়িতে গরু ও কিছু জমি কিনেছে। বাকি ৬০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিলে সেটাও সপ্তাহ দুই আগে আমার মেয়ের হাতে বুঝিয়ে দিই।’
তিনি আরও জানান, গত শনিবার সকালে মেয়ের খবর নেওয়ার জন্য ভাড়া বাসায় গেলে নাজমা ঘুমাচ্ছে বলে ফারুক তাকে কৌশলে ফেরত পাঠিয়ে দেয় এবং জানায় নাজমা ঘুম থেকে জাগলে তারা নারায়ণগঞ্জে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাবে। দুপুরে মেয়ের ভাড়া বাসায় এসে রুম তালাবদ্ধ দেখে ফেরত চলে যান। সন্ধ্যায় মোবাইলে কল দেওয়া হলে বারবার ফোন কেটে দেওয়া হয়। রবিবার সকালে ভাড়া বাড়ির লোকজন জানালা দিয়ে দেখতে পায় ঘরের বিছানায় নাজমার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তার অভিযোগ, ফারুক তার মেয়েকে খুন করে পালিয়েছে।
পূবাইল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে নাজমাকে হত্যা করে স্বামী ঘরে তালা লাগিয়ে শনিবার সকালে পালিয়ে গেছে।