আহমদিয়াদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও ৩ মামলা, ২৩ মামলায় গ্রেপ্তার ১৯০

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ‘সালানা জলসা’ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নিহতের ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনটি মামলা হয়েছে এবং নতুন করে গ্রেপ্তার হয়েছে তিনজন। পুলিশের পাশাপাশি গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব ও বিজিবি।

সব ঘটনায় সদর থানায় ১৮টি এবং বোদা থানায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা পুলিশ দায়ের করে। অন্য মামলাগুলো ভুক্তভোগীরা দায়ের করেছে। এ ছাড়া নতুন করে আরও চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ-র‌্যাব। এ নিয়ে ২৩ মামলায় মোট ১৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান চলমান রয়েছে। ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতায় অংশগ্রহণকারী দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোন সাধারণ নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এমন অভিযোগও নেই। নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তবে মামলা ও আসামি বেশি হওয়ার বিষয়টি নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনের মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে”।

শহরে ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও আহমদিয়াদের (কাদিয়ানী) দুটি মসজিদের আশে পাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে জানান পুলিশ সুপার।

গত শুক্রবার (৩ মার্চ) আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানি) বার্ষিক সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় পঞ্চগড়। জুমার নামাজের পর আহমদিয়াদের তিন দিনব্যাপী জলসা বন্ধসহ তাদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে জেলা শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। আন্দোলনরত সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদ ও কয়েকটি ইসলামী দলের কর্মী সমর্থকদের ডাকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বড় পরিসরে চৌড়ঙ্গী মোড়ের দিকে আসতে থাকে।

এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তাদের সাথে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ ঘটনায় একজন নিহতও হন। একই সময়ে আহমদিয়া অধ্যুষিত আহমদনগর ও শালশিরি গ্রামে আহমদিয়াদের বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।