সাভারের আশুলিয়ায় বংশী নদীর পাড় দখল করে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা প্রভাবশালীদের অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার নয়ারহাট এলাকার বংশী নদীর তীরে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আদনান।
উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আদনান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদীর জমিতে যে সকল অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে সেগুলো উচ্ছেদ করে নদীর জমি উদ্ধার করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এবং সাভার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে ৫৩টি পাকা দোকানসহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব অবৈধ দখলদারকে তিন দিন আগেই নোটিশ করা হয়েছিল। তারপরও তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ শনিবার উচ্ছেদের কথা জানিয়ে মাইকিং করা হলে দখলদাররা সমস্ত মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। আমরা নদী দখল করে গড়ে তোলা দোকানপাট, বালুর গদিসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছি। এখানে নদীর জমি ছাড়াও সরকারী খাস জমিতে আরও বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। যেগুলো পর্যায়ক্রমে নোটিশ করে উচ্ছেদ করা হবে। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধারকৃত জমিগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি লিখবো। এখানে নদীর পার বাঁধাই করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
উচ্ছেদের বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় বংশী নদীর তীর দখল করে জনপ্রতিনিধিসহ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হওয়ায় হাইকোর্ট এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার দিনব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নয়ারহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেকু দিয়ে প্রায় ৯১ টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে পঞ্চাশ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়। নতুন করে কেউ এসব স্থাপনা আবার দখল করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
অভিযানের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনসহ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বংশী নদীর সাভার নামাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৪ একর নদীর জমি উদ্ধার করেছে সাভার উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু কয়েকদিন পরেই প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের আলোতে ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে নদীর জমি পুনরায় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করতে দেখা গেছে। তবে সরেজমিনে ঘুরে দখলকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ প্রচার করা হলেও দখল কাজে ন্যূনতম বাঁধা প্রদান করতে দেখা যায়নি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। তাই সাধারণ মানুষের মাঝে দখলদারদের সাথে প্রশাসনের গোপন কোন আতাত রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।