ফ্র্যাঞ্চাইজি যুগে বাংলাদেশের নারী ফুটবল

পাশের দেশ ভারত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লিগ আইএসএল আয়োজন করে ফুটবল অবকাঠামোয় বিপুল পরিবর্তন এনেছে। ভারতের দেখাদেখি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সুপার লিগ আয়োজনের সাড়ম্বর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

পরে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আলোর মুখ দেখেনি আইএসএল। তবে সাত বছর পর স্পোর্টস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান কে-স্পোর্টসের কর্ণধার ফাহাদ করিমকে সঙ্গে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি নারী ফুটবল আসর আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

মূলত নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যকে পুঁজি করে বাফুফে ও কে-স্পোর্টস দেখছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিলাসী স্বপ্ন। মে মাসে পাঁচ অথবা ছয়টি দল নিয়ে হবে এই লিগ।

এই পুরো আয়োজনের নকশা করছে কে-স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফাহাদ করিম জানালেন, একটা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব বাফুফের কাছে অনেক আগেই দিয়েছিলেন তিনি। বাফুফেও দিয়েছে সবুজ সংকেত। আর গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাড়ম্বরে লিগ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। যে আয়োজনে কে-স্পোর্টস উপস্থিত করেছিল সিনে ও নাট্য জগতের একঝাঁক তারকাকে।

আসরের প্রস্তাবিত ম্যাচের সংখ্যা ১৯ থেকে ২৪টি। ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশি ফুটবলার খেলার সুযোগ না থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে থাকবে বিদেশি কোটা। আসবে দক্ষিণ এশিয়া ও ফিফার অন্যান্য সদস্যদেশ থেকে।

আসরের প্রস্তাবটা হাতে পেলেও সেটা যে এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি তা বাফুফে ও কে-স্পোর্টসের কর্তাদের কথাতেই বোঝা গেছে। বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল আয়োজন করা কঠিন। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, কোন সময় এটা হবে, কারা কারা আসবে, প্লেয়ারদের পেছনে ব্যয় কেমন হবে সব মিলিয়ে এটা অনেক বড় ইস্যু।’

ফাহাদ করিম জানান, কমপক্ষে পাঁচটা দল থাকবে। ছয়টা হলে ভালো হয়। প্রতিটি দলে ১৮ জন খেলোয়াড় থাকবে, এর মধ্যে ১৩ জন দেশি এবং ৫ জন বিদেশি। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা থাকবে হবে, অন্য দুজন হবে দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় দলে খেলা।

এমন আয়োজনে স্বাভাবিকভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন নারী ফুটবলাররা। জাতীয় নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও মনে করেন তা।

তবে তার চাওয়া কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ করে নয়, এমন কিছু করা হোক, যাতে সামগ্রিক নারী ফুটবল উপকৃত হয়, ‘সত্যি বলতে, আমি রোমাঞ্চিত। ফুটবলের সোনালি দিন ফিরছে মেয়েদের হাত ধরে। আশা করছি ভালো একটা লিগ হবে। মেয়েদের যেটা স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হতে যাচ্ছে।’

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ হয়ে গেলে মে মাসের এই আসর সেখানেই আয়োজনের ইচ্ছা আয়োজকদের। সেটা না হলে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বসুন্ধরা কিংস এরেনা ও সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের কথা ভেবে রেখেছেন তারা।