বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে শেষ আটে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো সেলেসাওরা। মাঠের এই চরম ব্যর্থতার নেপথ্যে ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং কাঠামোগত দুর্বলতাকে সরাসরি দায়ী করেছেন ফুটবল সম্রাট পেলের বড় মেয়ে ও অ্যাক্টিভিস্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা কেলি নাসিমেন্তো।
রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রাজিলের বর্তমান ফুটবল সিস্টেমের ওপর নিজের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
টরন্টোতে 'দোহা ডিবেটস'-এ অংশ নেওয়ার ফাঁকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে কেলি নাসিমেন্তো ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:
"ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এর পেছনে দুর্নীতি হোক বা অন্য কিছু... এটি আসলে একটি বদ্ধ এবং অত্যন্ত পঙ্কিল ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে, যার ভেতরটা বাইরে থেকে কেউ দেখতে পারে না। সবাই জানে কেন এটি কাজ করছে না, কিন্তু কেউই এটি ঠিক করতে পারছে না।"
কেলি উল্লেখ করেন যে, ব্রাজিলের ফুটবল প্রতিভার অভাব নেই এবং দেশটিতে এখনও বিশ্বমানের দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় দলের এই ক্রমাগত সংগ্রাম এবং ব্যর্থতা আসলে মাঠের ভেতরের কোনো সমস্যা নয়, বরং ফুটবল কাঠামোর ভেতরের গভীর সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।
কেলি নাসিমেন্তো জানান, তাঁর প্রয়াত পিতা ফুটবল সম্রাট পেলেও জীবদ্দশায় ব্রাজিলের ফুটবলের এই অধঃপতন ও প্রশাসনিক দূরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।
ব্রাজিলের এই ফুটবলীয় পতনের বিপরীতে তিনি ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর প্রশংসা করেন। কেলি মনে করেন, ফরাসিরা ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং নতুন প্রতিভা তৈরি করার জন্য ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর, আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেম তৈরি করতে পেরেছে।
প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেও ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক একটি পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কেলি। বিশেষ করে মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটরের অধীনে ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলিয়ান ক্লাব 'বোতাফোগো'-এর ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ টানেন তিনি। ২০২২ সালে রিও ডি জেনিরোর এই ক্লাবের সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেওয়ার পর টেক্সটর ক্লাবের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন।
জন টেক্সটরের ক্লাব পরিচালনা নিয়ে ব্রাজিলে নানা সমালোচনা থাকলেও কেলি একে স্বাগত জানিয়ে বলেন:
"তিনি যেভাবে ক্লাব পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। তবে সবকিছুরই ভালো এবং মন্দ দুটি দিক থাকে। তিনি এখানে যা নিয়ে এসেছেন, তা হলো স্বচ্ছতা। কারণ তাকে একটি বিদেশি সংস্থার কাছে নিজের কাজের জবাবদিহি করতে হয়। এই মুহূর্তে ব্রাজিলের ফুটবলে এটাই সবচেয়ে বেশি দরকার। তাই সবকিছু ছাপিয়ে আমার কাছে এটাই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।"
আর্জেন্টিনা রেফারির কান্ড নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন এমবাপ্পে
কিংবদন্তীকে ছুঁয়েও এমবাপ্পে বলেন, 'এখনো অনেক পথ বাকি'