অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ: ৯ সুপারিশ

কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ঘটনা ঘটেছে সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে। এর সঙ্গে আরো দুটি কারণও রয়েছে। অক্সিজেন প্ল্যান্টে দুর্ঘটনা এড়াতে নয় দফা সুপারিশও প্রস্তাবনা করেছে তদন্ত কমিটি।

এসব সুপারিশের আলোকে ২০ মার্চ চট্টগ্রামের অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করবে জেলা প্রশাসন।

তবে দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাকিব হাসান সিলগালা প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্টটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। এটি আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠিয়ে দেব। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে বিস্ফোরণের কারণ ও সুপারিশগুলো মিডিয়াকে জানানো হবে।’

কিন্তু সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টটির সব ছাড়পত্র যথাযথ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান উত্তর দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাকিব হাসানকে বলেন।

তখন রাকিব হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু সমস্যা তো ছিল। তবে অবহেলায়ই ছিল প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া দেশে অক্সিজেন প্ল্যান্টে আগে কখনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বে গত এক দশকে মাত্র তিন থেকে চারটি ঘটনা ঘটেছিল। তাই ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অক্সিজেন সেপারেশন কলামে যে বিস্ফোরণ হয়েছিল তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’

দুর্ঘটনার পরদিন দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানেও অক্সিজেন সেপারেশন কলামটি বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এবং ১৪ ফুট বাই ১৪ ফুট আয়তনের অক্সিজেন সেপারেশন কলামটি বিস্ফোরিত হওয়ায় এর গায়ে লাগানো লোহার শিটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। মানুষও মারা গিয়েছিল এসব লোহার শিটের আঘাতে। এই কলামটিতে এসে অক্সিজেন জমা হতো। একই সঙ্গে দুটি পাইপ দিয়ে আসত বাতাস। আর দুটি পাইপ দিয়ে উৎপাদিত অক্সিজেন দুটি ডেলিভারি পয়েন্টে চলে যেতো। সেই ডেলিভারি পয়েন্টে প্রায় ২৪টি সিলিন্ডারে একসঙ্গে অক্সিজেন রিফিল করা যায়। এই প্ল্যান্টে দুটি ডেলিভারি পয়েন্ট ছিল। কোনো না কোনো কারণে অক্সিজেন ডেলিভারি হতে পারেনি বলে জমে থাকা অক্সিজেন বিস্ফোরিত হয়েছিল বলে শ্রমিকদের এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ধারণা।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হয়েছিল প্রায় ৩০ জন। এতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার পর কমিটি আরো দুজন টেকনিক্যাল ব্যক্তিকে কোঅপ্ট করে।