ওয়ার্কশপ অন ফিকহ অব জাকাত ২০২৩ সম্পন্ন

আইএফএ কনসালট্যান্সির উদ্যোগে ও অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটালের সৌজন্যে মেরুল বাড্ডার সানজি থাই ও চায়নিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়ার্কশপ অন ফিকহ অফ জাকাত। কর্মশালায় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও ছাত্রসহ নানা পেশার শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যুক্ত হন। দিনব্যাপী হওয়া কর্মশালায় শরিয়াহসম্মত উপায়ে নারীদের অংশগ্রহণেরও ব্যবস্থা ছিল।

জাকাতের নানা প্রসঙ্গে মৌলিক আলোচনা ছিল কর্মশালার মূল বিষয়। তবে কুইজ পর্ব ও হাতে-কলমে জাকাতের হিসাব-পদ্ধতিসহ নানা আয়োজনের দরুন কর্মশালাটি প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে আইএফএ কনসালট্যান্সির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম বলেন, ‘সমাজে জাকাত প্রদানকারী এমন অনেকেই আছেন, যারা সঠিকভাবে জাকাত আদায় করেন না। যে কারণে আমরা জাকাতের আর্থসামাজিক সুবিধা থেকে সেভাবে উপকৃত হতে পারছি না।’

বক্তব্যে তিনি একটি প্রতিবেদনের আলোকে বলেন, ‘পৃথিবীর বিত্তশালীরা যদি তাদের সম্পদের ২ শতাংশ বিলিয়ে দিত, তাহলে পৃথিবীতে অনাহারী মানুষ থাকত না।’

কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে জাকাত কী ও কেন, জাকাত কাদের আদায় করতে হয়? জাকাতযোগ্য সম্পদের বিবরণ ও জাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আইএফএ কনসালট্যান্সি বিভাগের প্রধান মুফতি যুবায়ের আবদুল্লাহ। জাকাত ও ঋণ এবং জাকাত আদায়ের খাত নিয়ে আলোচনা করেন আইএফএ কনসালট্যান্সির শরিয়াহ পরামর্শক মুফতি আবু বকর নাবিল।

কর্মশালার দ্বিতীয় অধিবেশনে কোম্পানির জাকাত আদায় সংক্রান্ত শরিয়াহ নির্দেশনা তুলে ধরেন আইএফএ কনসালট্যান্সির ফাউন্ডার মুফতি ইউসুফ সুলতান। ফসলের জাকাত ও বাংলাদেশের জমির বিধান সংক্রান্ত শরিয়াহ নির্দেশনা উপস্থাপন করেন আইএফএ কনসালট্যান্সির প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান মুফতি আহসানুল ইসলাম।

কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে মুফতি ইউসুফ সুলতান বলেন, ‘আমরা কবে থেকে এত স্বার্থপর হয়ে গেলাম যে, “জাকাত আদায় করব না” এমন মানসিকতা ধারণ করি? এটা ইসলামের শিক্ষা না। এগুলো পুঁজিবাদ এসে শিক্ষা দিয়েছে যে, আমার সম্পদ আমারই। এমন চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মাত্র আড়াই শতাংশ জাকাত হিসেবে দেওয়া তো বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। আমাদের এর বাইরেও দান-অনুদান করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এ কর্মশালার মূল পয়েন্ট হলো ক. সামনে থেকে আমাদের জাকাত যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে, খ. জাকাতের আলোচনা ছড়িয়ে দিতে হবে ও গ. এমন প্রোগ্রাম আমরা আরও করতে চাই।’

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটালের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট আবু হানিফা মুহাম্মদ নোমান, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আলমগীর কবির ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ভাইস প্রিন্সিপাল আতিকুর রহমান খান খাদেম প্রমুখ।

  দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক