অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যেই প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়েছে। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থী এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এসেছেন। তাদের গাড়িবহর ও বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এখন তারা চান ভোটগ্রহণটা অন্তত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।

জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলেঙ্গা পৌরসভায় এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বর্তমান মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র শাফী খান এবং এলেঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি রেজিনা আখতার।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পৌরসভায় অনেক বেশি নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করেছেন। সেসব কার্যালয়ে বহিরাগত লোকজনকে পাহারায় বসিয়েছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের প্রচারণায় নানাভাবে বাধা দিয়েছেন। দুই প্রার্থী লিখিতভাবে এসব ঘটনা নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র শাফী খান বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা এক প্রকার বোকামি। তারপরও কমিশনের কার্যক্রম কতটা সুষ্ঠু হয় তা দেখার জন্য নির্বাচনে এসেছি। আমার নিজ গ্রামে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। কর্মীদের প্রচারণায় নানাভাবে বাধা দিয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্থানীয় এমপি এসে নৌকার প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন ভোট যেমনই হোক নির্বাচিত নৌকাই হবেভোটের আগে এটা কেমন কথা?’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজিনা আখতার বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তায় নৌকার প্রার্থীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রচারণার সময় আমার কর্মীদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে।’

তবে দুই প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নূর এ আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার কর্মীরা কাউকে বাধা দেয়নি। নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত জেনে তারা অহেতুক অভিযোগ এনেছেন।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, এলেঙ্গা পৌরসভায় তিনজন মেয়র প্রার্থী, নয়টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন ও তিন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। পৌরসভায় মোট ভোটার ৩০ হাজার ৪৬৭ জন।