গণবিধ্বংসী অস্ত্র মুক্তকরণ এবং গণতন্ত্র স্থাপনের অজুহাতে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের আগ্রাসনের দুই দশক পূর্ণ হচ্ছে। তৎকালীন ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের তথাকথিত স্বৈরশাসনের হাত থেকে ইরাকিদের ‘মুক্তি দিতে’ ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ বিমান হামলা এবং ২০ মার্চ স্থল অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমারা। অনেকের ধারণা ছিল, প্রায় আড়াই দশক শাসন করা একনায়কের পতন ইরাককে নতুন পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু ইরাকিদের দেওয়া পশ্চিমা সেই মুক্তির বাণী শুধুই যে মরীচিকা তা এতদিনে প্রমাণিত হয়েছে। দুই দশকে ইরাকিদের ভাগ্য আরও অনিশ্চিত হয়েছে। সর্বত্র অভাব, হিংস্রতা, হতাশা। এমনকি গোটা বিশ্বের জন্য বিভীষিকা হয়ে ওঠা নৃংশস জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জন্ম হয়েছে সাদ্দাম-পরবর্তী আমলের রাজনৈতিক শূন্যতায়। সব মিলিয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে ইরাক। প্রাণ গেছে প্রায় চার লাখের বেশি মানুষের।
ইরাক যুদ্ধের ২০ বছর পর সেই ইরাক আর এই ইরাকের কথা স্মরণ করছে ইরাকিরা। সাদ্দামের হাত থেকে বাঁচার আশা করা গোষ্ঠীর কেউ এখন আরও খারাপ অবস্থায়। সাদ্দামের পতনের পরও কয়েক দফায় নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হাজারো স্বজন হারিয়েছেন তারা। ফাইজা সারহান (৫০) নামে এক ইরাকি জানান, কমিউনিস্ট পার্টি করার অপরাধে তার পরিবারের সাত সদস্যকে সাদ্দাম শাসনামলে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল। তারপরও সেই আমল অপেক্ষাকৃত ভালো তার কাছে, সাদ্দামের শাসনামলে সংখ্যালঘুরা বাধার মুখে পড়ত না, ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাদের ওপর গণহারে নিধনযজ্ঞ চলেনি। ১৯৮৮ সালে সাদ্দাম সরকারের গ্যাস হামলায় পরিবারের ১২ জনকে হারানো কুর্দি আরাস আবিদই শুধু বেঁচে ফিরতে পেরেছিলেন। সেই তিনিই এখন বলছেন, ‘সাদ্দামের পতনের পর অন্যরা যে ভয়াবহ অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, তা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’ সাদ্দামের নির্মম শাসন দেখেছিলেন খালিদ অলোকা; কিন্তু তার পতনের কয়েক বছর পর ইয়াজিদিদের যেভাবে পাইকারিভাবে হত্যা করা শুরু হয়, তার তুলনায় সাদ্দামের শাসনকেও এখন ভালো মনে হয় তার। অলোকার মতে, ২০০৭ সালে আল-কায়েদা এবং ২০১৪ সালে আইএস যারা দেখেছে তাদের কাছে সাদ্দাম আমল ভালো।