যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা পৌর মেয়র ও একই দলের সহসভাপতি মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। গত বুধবার হত্যার হুমকি দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানা পুলিশ ও জেলা আওয়ামী লীগকে লিখিতভাবে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। এ সময় মেয়রের সঙ্গে পৌরসভার ১১ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি পৌরসভায় নিজ কার্যালয়ে থাকার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ কক্ষে ঢুকে সেখানে উপস্থিত সবাইকে বের করে দেন। এরপর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাইরে বের হলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।’
তিনি বলেন, ‘মুছা মাহমুদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন কথাবার্তা বন্ধ রয়েছে। কারণ সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিলে মুছা মাহমুদ গং নৌকার বিপক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচন করে। আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় পৌর পরিষদের প্যাডে ঝিকরগাছা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করি। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় ওসি আমার এজাহারটি গ্রহণ করলেও মামলা রেকর্ড করেনি। এ বিষয়ে আমি ওসি সাহেবকে ফোন করলে তিনি ওপরের নির্দেশের অপেক্ষা দেখান।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘আপনাদের কাছে প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগের পদে থাকলেই কি সে আইনের ঊর্ধ্বে?’ কী কারণে হত্যার হুমকি জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভার সাবেক বোটঘাট এলাকায় পাঁচ শতকের একটি সরকারি সম্পত্তি ডিসিআর না কেটেই মুছা মাহমুদের নেতৃত্বে ব্যক্তিস্বার্থে দখল করে নেওয়া হয়েছে। এত দিন ওই জমির ওপরে থাকা ভবন তালা দেওয়া থাকলেও সেটা গত বুধবার খোলা অবস্থায় দেখে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। এর ঘণ্টাখানেক পরে এসে মুছা মাহমুদ আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে মুছা মাহমুদ বলেন, ‘ওই জমি আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত অফিসের। কিন্তু মেয়র সেখানে ব্যক্তিগত অফিস বানাতে চায়। এ বিষয় জানতে মেয়রের কার্যালয়ে গেলে মেয়রই পিস্তল বের করে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ঝিকরগাছা থানায় জিডিও করেছি।’
ঝিকরগাছা থানার ওসি সুমন ভক্ত বলেন, ‘দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’