খোঁটা দিয়ে দমিয়ে রাখা দান কবুলের অন্তরায়

মানবতার ধর্ম ইসলামে পরোপকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটা ইমানের দাবি এবং আল্লাহতায়ালার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ। পরোপকার যে পন্থায়ই হোক, আল্লাহতায়ালার কাছে কবুল এবং মর্যাদাপূর্ণ। দানের পর উপকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বদলা পাওয়া, সুনাম-সুখ্যাতির আশা করা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভ কিংবা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা ভোগ করা, খোঁটা দিয়ে দমিয়ে রাখা দান কবুলের অন্তরায়। দান নেকির কাজ, কিন্তু দানের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করে নিজেকে জাহির করা কবিরা গোনাহ। সুতরাং উপকৃত ব্যক্তির থেকে সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়ে তাকে অপমান করা, অকৃতজ্ঞ ও অবাঞ্ছিত বলে গালি দেওয়াও কবিরা গোনাহ। যে ব্যক্তি কারও কাছ থেকে উপকার নেয় সে এমনিতেই মানসিকভাবে দুর্বল থাকে, তার ওপর যদি খোঁটা দেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত অপমান ও কষ্টের কারণ হয় এবং অন্তরে রীতিমতো রক্তক্ষরণ ঘটায়।

উপকার করে খোঁটা দেওয়া একটি বিশ্রী অভ্যাস। এটা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেয়। দেখা যায়, একশ্রেণির মানুষ দান-দক্ষিণা করে পরক্ষণেই খোঁটার বাণে জর্জরিত করে। গ্রহীতার সঙ্গে দাতার কোনো কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে তখন অতীতে উপকারের ফিরিস্তি খুলে দেয়। কাউকে সহযোগিতা বা উপকার করে খোঁটা দেওয়া ইসলামে নিকৃষ্ট অপরাধ। খোঁটা দিলে উপকারের সওয়াব বিনষ্ট হয়ে যায়। তাই খোঁটা দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অন্যায়। ইসলাম মনে করে, সংকীর্ণমনারাই অন্যকে খোঁটা দেয়। আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন খোঁটাদেনেওয়ালার সঙ্গে কথা বলবেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদকা বাতিল করো না।’ সুরা আল-বাকারা : ২৬৪

এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবি হজরত আবু যর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বরং তাদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি। হজরত আবু যর বললেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কথাগুলো তিনবার বললেন। হজরত আবু যর বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তারা ধ্বংস হয়েছে, তারা কে? তিনি বললেন, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, খোঁটা দাতা ও মিথ্যা কসম করে সম্পদ বিক্রয়কারী।’ সহিহ মুসলিম : ১০৬