ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডির আঘাতে আফ্রিকার তিন দেশে প্রাণ হারিয়েছে ৪৬৩ জনেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে মালাবিতেই মারা গেছে প্রায় ৩৬০ জন। এছাড়াও দেশটিতে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছে। রেকর্ড ব্রেকিং তাণ্ডব চালানোর পর চলতি সপ্তাহে ঝড়টি দুর্বল হয়ে পড়ে। শুক্রবার (১৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝড়ের প্রভাবে মালাবির দক্ষিণাঞ্চলে ছয় দিনে ছয় মাসের সমান বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষি জমি ডুবে গেছে।
ওসিএইচএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ এ দুর্যোগে মালাবিতে এক লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যূত হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি।
মালাবির প্রেসিডেন্ট লাজারাস চাকভারা বলেন, এখনো অনেক এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়নি। এসব এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালালে ক্ষয়ক্ষতি ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। তিনি কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। খবর বাসসের।
ওসিএইচএ জানায়, বর্ষাকালের একেবারে শেষের দিকে ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি মালাবিতে আঘাত হানে। আর এই সময়টাতে দেশটিতে নদী ও জলাশয় পানিতে পরিপূর্ণ থাকে।
জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর পল টার্নবুল বলেছেন, আমরা এমন পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। মালাবিতে এক লাখ ৩০ হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট চাকবারা বলেন, সরকার এ পর্যন্ত গৃহহীন হয়ে পড়া এক লাখ ৮৩ হাজারের বেশি মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। তিনি এ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে সেনা ও পুলিশ বাহিনী লাশের সন্ধানে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রেখেছে।