সেরা শিল্প নির্দেশক শিহাবের অভিজ্ঞতা

শিল্প নির্দেশনায় এ বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শিহাব নূরুন নবী। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ‘নোনা জলের কাব্য’ মোট ৭টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। তারমধ্যে একটি শিল্প নির্দেশনা। রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানতে চাইলে শিহাব বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত ছিল, তাই অনুভূতি আরও ভালো। আমি আসলে আশা করিনি। কারণ আমাদের এখানে অ্যাওয়ার্ড যাদের পাওয়া উচিত তারা পান না সব সময়। তাছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সাধারণত এফডিসিকেন্দ্রিক হয়। আমার তো এফডিসির সঙ্গে অতটা যোগসূত্র নেই। সবমিলিয়ে আমি খুব বেশি আশায় বুক বাঁধিনি। কিন্তু আমি যে মূল্যায়নটা পেয়েছি, এজন্য আনন্দ আরও বেড়ে গেছে। কারণ জাতীয় পুরস্কার আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। এত বছর ধরে কাজ করছি, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি।’

‘নোনা জলের কাব্য’তে কাজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন শিহাব, ‘অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। আন্তর্জাতিক সিনেমার কাজ যেভাবে হয় আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করেছি। কুয়াকাটার গঙ্গামতি চরে শ্যুটিং করেছিলাম। শ্যুটিং শুরুর আগেই শুধু ৩৫ দিনের মতো আমরা সেখানে থেকেছি। আর শ্যুটিংয়ের জন্য থাকতে হয়েছে আরও এক মাস। সব মিলিয়ে এই ছবির জন্য আড়াই মাস সময় দিয়েছি। তবে এত লম্বা সময় ধরে একটি কাজ করলেও কোনো ক্লান্তি আসেনি। আমাদের সঙ্গে একটি বিদেশি টিম ছিলেন। প্রডাকশন ডিজাইন করেছেন ফ্রান্সের সিলভা। তিনি এর আগে বাংলাদেশের বিখ্যাত ছবি ‘মাটির ময়না’তে শিল্প নির্দেশকের কাজ করেছেন। অনেকে এটা বুঝতেই পারেননি যে আমরা সিনেমাতে যা যা দেখিয়েছি তার বেশিরভাগই সিনেমার জন্যই বানানো। নায়কের থাকার ঘর, নায়িকার বাড়ি, মসজিদ থেকে শুরু করে সবই করেছি। দুটি কারণে এগুলো করতে হয়েছে। প্রথমত আমরা যেখানে কাজ করেছি সেখানকার লোকজন এতটা সচ্ছল নন যে আমাদের জন্য একটি ঘর ছেড়ে দিয়ে তারা আরেকটি ঘরে থাকবেন। তাছাড়া আমরা সিনেমার ব্লকিং, লাইট ও দৃশ্যায়ন বুঝে যেখানে যা দরকার সেটা তো রিয়েল পরিস্থিতিতে পাব না। তাই পুরোটা নিজেদের মতো করে তৈরি করে নিতে হয়েছে। আমরা বাইরে থেকে তেমন কিছুই ব্যবহার করিনি। যা যা করার সব স্থানীয়দের দিয়েই করিয়ে নিয়েছি। আর এই কাজে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের পক্ষ থেকে পুরোপুরি স্বাধীনতা পেয়ে আমরা কাজটি করেছি।’