স্বাক্ষর, সিল ব্যবহার করে আটক

সিভিল সার্জনের নামে ভুয়া নিয়োগপত্র

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের নাম, স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিভিল সার্জনের নাম, স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ ঘটনায় এক প্রতারককে আটক করেছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় প্রতারণার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিন্নাহ আল মামুন। গ্রেপ্তার ২৬ বছর বয়সী আশিকুর রহমান দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ীর সিদ্দিকুল আলমের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আশিকুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অফিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গ্রামের সহজ, সরল ও নিরীহ লোকদের টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বীরগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী এক কলেজছাত্রীকে টার্গেট করে। আশিকুর প্রথমে ওই ছাত্রীকে চাকরির প্রলোভন দেখায়। এতে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। গত ১৬ মার্চ আশিকুর সিভিল সার্জনের নাম, স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে একই অফিসের অফিস সহকারী-৩ পদে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে তাকে দিয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়।

এরপর কলেজছাত্রী ১৮ মার্চ সিভিল সার্জন ডা. বোরহান উদ্দীনের কাছে ‘নিয়োগপত্রটি’ নিয়ে যোগদান করতে গেলে ভুয়া নিয়োগপত্র দেখে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (সিএস) ডা. সামিউল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন আরও জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে আশিকুর পলাতক ছিল। ১৮ মার্চ রাতে অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫ ভুক্তভোগীর জীবনবৃত্তান্ত জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আরও এক কলেজছাত্রী তার বিরুদ্ধে একই রকমের অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্রীর কাছ থেকে আশিকুর ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। আশিকুরের বিরুদ্ধে আরও একটি প্রতারণার মামলা চলমান।